আইনজীবী মমতার ‘লিগ্যাল স্টেটাস’ নিয়ে প্রশ্ন! ২ দিনের মধ্যে নথি চাইল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া

সবদিক নিউজ: বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে কালো গাউন পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝোড়ো সওয়ালের রেশ কাটতে না কাটতেই বড়সড় ধাক্কা। দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পেশা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাইল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কবে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর ওকালতির লাইসেন্স বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব চাওয়া হয়েছে।
BCI-এর কড়া নির্দেশ
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া জানতে চেয়েছে, ঠিক কোন তারিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কি পেশা স্থগিত (Suspend) রাখার আবেদন করেছিলেন? যদি করে থাকেন, তবে পুনরায় ওকালতি শুরু করার জন্য তাঁর ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাকটিস’ নবীকরণ হয়েছে কি না, সেই সমস্ত শংসাপত্র আগামী দুই দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
১৯৮৫ সাল থেকে লড়াইয়ের দাবি
এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছিলেন যে, ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি বার কাউন্সিলের সদস্য। তিনি নিয়মিত তাঁর সদস্যপদ নবীকরণ করে আসছেন বলেও দাবি করেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের লড়াইকে এবার এজলাসে নিয়ে এসে তিনি বলেন, “রাজ্যের মানুষকে বাঁচান, পশ্চিমবঙ্গ কোনও বুলডোজার রাজ্য নয়।” তৃণমূলের ১৬০টি কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে এদিন দীর্ঘক্ষণ সওয়াল করেন তিনি।
বিজেপির সংস্কৃতি বনাম হেনস্থা
আদালত চত্বরে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূলের নিজস্ব নাটক বলে দাবি করলেও, তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি আঙুল বর্তমান শাসকদলের দিকে। তবে এরই মাঝে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার এই চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের পথে নতুন কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আইনজ্ঞদের মতে, বার কাউন্সিলের এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি কোনো আইনি ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে আইনজীবী হিসেবে মমতার সওয়াল করার অধিকার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে যেতে পারে।



