‘আমিই শেষ করব ওকে’, কেতনকে কীভাবে খুন করে সিয়ার প্রেমিক? তদন্তে ফাঁস হাড়হিম করা পরিকল্পনা

সবদিক নিউজ:মহারাষ্ট্রের পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের আড়ালে ঘটে যাওয়া কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের (Ketan Agarwal Murder Case) তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা বা দুর্ঘটনা নয়, বরং বহুদিন ধরে পরিকল্পনা করেই একটি হত্যার ছক কষা হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে যে, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এর আগেও দু’বার তাঁকে খুনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যর্থতা দেখে সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সিয়ার প্রেমিক চেতন। পুলিশের দাবি, ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে আগেই পৌঁছে যায় চেতন এবং সেখানে সিয়ার ইশারার অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। সঠিক মুহূর্তে ইশারা মিলতেই কেতনকে খাদে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। আরও জানা যাচ্ছে যে, ঘটনাটি এতটাই পরিকল্পিত ছিল যে কেতন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও বিপদের টেরই পাননি।
কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের (Ketan Agarwal Murder Case) তদন্তে ফাঁস হাড়হিম করা পরিকল্পনা:
এর পাশাপাশি পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও বেশ কিছু বিস্ময়কর তথ্য। তদন্তকারীদের মতে, ১৪ জুন দ্বিতীয়বার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চেতন মানসিকভাবে প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিলেন। সিয়ার সামনেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, “তুমি পারবে না আর, এবার আমাকেই যা করার করতে হবে।” এরপরই শুরু হয় নতুন করে খুনের ছক কষা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ জুন নিয়ে যাওয়া হয় লোহাগড় দুর্গে। সেদিন সেখানে কেতন ও সিয়ার পাশাপাশি গোপনে উপস্থিত ছিলেন চেতনও। পুলিশের দাবি, কেতনকে তাঁদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর মহাবালেশ্বরে গিয়ে একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করবেন বলে ঠিক করেছিলেন সিয়া আর চেতন। তদন্তকারীদের অনুমান সেই কারণেই তাঁরা তাড়াহুড়ো করে এই হত্যাকাণ্ডকে বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা করেন (Ketan Agarwal Murder Case)।
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়ি! নিখোঁজ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তান
পুলিশের সূত্রের খবর, জেরার সময় সিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন যে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কেতনকে ধাক্কা দেওয়ার সঠিক সময় এলে তিনি চেতনকে সংকেত দেওয়ার কথা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি নিজে বসে পড়বেন, যাতে চেতনের পক্ষে কেতনকে পিছন থেকে ধাক্কা দেওয়া সহজ হয়। তদন্তকারীদের বক্তব্য, পরিকল্পনা ঠিক সেইভাবেই বাস্তবায়িত হয়েছিল। আচমকা ধাক্কায় খাদে পড়ে যান কেতন। তদন্তের শুরুতে পুলিশি হেফাজতে সিয়া ও চেতন একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করলেও, পরে দু’জনেই নিজেদের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি, তদন্তকারী সংস্থার। তবে মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং আদালতেই শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষ বা নির্দোষ প্রমাণিত হবে।
এই হত্যাকাণ্ড সামনে আসার পর গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে শুরু হয় চর্চা। কারণ, আগামী নভেম্বরেই ছিল কেতন ও সিয়ার বিয়ের দিন। তার জন্য ধুমধাম করে প্রস্তুতিও চলছিল। জানা গিয়েছে, বিয়ের জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা খরচ করে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল প্রাইভেট জেটেরও। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বেশ জাঁকজমক করে পূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের বাগদানও সম্পন্ন হয়েছিল। বাইরে থেকে সবকিছু নিখুঁত ও পরিপাটিভাবে সুখী একটি সম্পর্কের ছবি তুলে ধরলেও, তদন্তে উঠে আসা তথ্য বলছে সেই সম্পর্কের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল জটিল ব্যক্তিগত টানাপোড়েন এবং এক গোপন প্রেমের পাশাপাশি আক্রোশের গল্প।

ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় লাগামছাড়া AI ব্যবহার নয়! আগেভাগে সতর্ক হয়ে বড় পরিকল্পনা RBI-র
ঘটনাটি এখনও তদন্তের অধীনে এবং পুলিশ ঘটনার প্রতিটি দিকই খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা তাঁদের মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা সহ ইতিমধ্যে বিভিন্ন অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও সংগ্রহ করছেন, যাতে পুরো ষড়যন্ত্রের চিত্র স্পষ্ট করা যায়। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এই হত্যার পরিকল্পনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে সম্পর্কে কয়েক মাস পর বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতি এল? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তে ব্যস্ত পুলিশ। আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের আইনি পরিণতি কী হয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের (Ketan Agarwal Murder Case)।




