0%

কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তৃণমূল? রাহুল-অভিষেকের দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তোলপাড় দিল্লি

সবদিক নিউজ: বাংলায় বিধানসভা এবং লোকসভা, উভয় সংসদীয় দলেই বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-এর ধাক্কায় যখন কার্যত খড়কুটোর মতো ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের, ঠিক তখনই জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে এক অভূতপূর্ব ও অবিশ্বাস্য সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। ক্ষমতা ও সাংসদ হারানোর চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে অস্তিত্ব বাঁচাতে এবার দিল্লির ১০ জনপথের শরণাপন্ন হলেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ বৈঠকের পর, বুধবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে দেখা করতে ১০ জনপথে পৌঁছান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দুই নেতার মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের এই ম্যারাথন বৈঠক ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অহংকার ভুলে রাহুলের দুয়ারে অভিষেক

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলার বর্তমান ডামাডোল পরিস্থিতি, তৃণমূলের রুগ্ন ভবিষ্যৎ এবং সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির নতুন মেরুকরণ। মজার কথা হল, একটা সময় যে কংগ্রেসকে ‘জমিদারি মানসিকতা’র দল বলে তীব্র কটাক্ষ করতেন অভিষেক ও জোড়াফুল শিবিরের অন্য নেতারা, আজ সেই কংগ্রেসের হাতকেই ‘বাঁচবার খড়কুটো’ হিসেবে আঁকড়ে ধরতে হচ্ছে তাঁদের। এমনকি সর্বভারতীয় স্তরে একদা কংগ্রেসকে কোণঠাসা করে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের ভেতরেই যে ‘জিঞ্জার গ্রুপ’ বা সমমনস্ক দলগুলির নিজস্ব গোষ্ঠী তৈরির চেষ্টা মমতা-অভিষেক করেছিলেন, তা আজ পুরোপুরি ব্যর্থ। এখন খোদ দলের অস্তিত্ব বাঁচাতে নিত্যদিন ১০ জনপথের দরজায় হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে কালীঘাটকে।

তৃণমূলের বিলুপ্তি ও কংগ্রেসে যোগদানের মেগা জল্পনা

তবে সবচেয়ে বড় বোমাটি ফেটেছে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দের অন্য এক গুঞ্জনে। শোনা যাচ্ছে, লোকসভা ও রাজ্যসভায় যেভাবে একের পর এক সাংসদ দল ছাড়ছেন, তাতে আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের নিয়মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আদৌ থাকবে কি না, তা নিয়ে বড়ো সংশয় তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদলবলে তৃণমূল কংগ্রেসকে মূল দল অর্থাৎ জাতীয় কংগ্রেসের (Indian National Congress) সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন!

সূত্রের দাবি, শীর্ষস্তরের এই দফায় দফায় বৈঠকে মমতা ও অভিষেকের কংগ্রেসে যোগ দেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসের হাইকম্যান্ডের তরফে মমতাকে সর্বভারতীয় স্তরে বড় কোনও সাম্মানিক পদ এবং অভিষেককে জাতীয় রাজনীতিতে মাঝারি মাপের একটি সাংগঠনিক পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দিল্লির এই ‘হাত’ বাড়ানো প্রস্তাব লুফে নেওয়া ছাড়া মমতা-অভিষেকের সামনে আর কোনও বিকল্প পথ খোলা নেই। সব মিলিয়ে, বাংলায় ঘাসফুলের অবসান ঘটিয়ে ফের ‘হাত’ শিবিরের পুনরুত্থান হতে চলেছে কি না, তা আগামী কয়েকদিনেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker