‘জেন জি-দের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যাবে না’, নিট আন্দোলন নিয়ে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের – সবদিক

নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়িয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, তরুণদের উদ্বেগ ও অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা উচিত। প্রতিবাদ করলেই কাউকে দেশদ্রোহী বলা যায় না।
বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে ‘ইন্ডিয়াজ় ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশন্স’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় দুই হাজার স্কুল-কলেজ পড়ুয়ার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন ভাগবত। সেখানেই সাম্প্রতিক নিট আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাদের উদ্বেগ এবং অভিযোগ ন্যায্য। তারা যে প্রশ্ন তুলেছে, তার যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।”
– বিজ্ঞাপন –
নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের একাংশকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত স্পষ্ট বলেন, “তরুণ প্রজন্ম প্রতিবাদ করলেই তারা দেশদ্রোহী হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই পরবর্তী প্রজন্ম।” তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশসেবার আন্তরিক মানসিকতা রয়েছে।
তবে তিনি এ-ও বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও তার একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি থাকা উচিত। তাঁর কথায়, “এখনকার তরুণরা প্রশ্ন করে, তারা যুক্তি চায়। তাদের সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মন্তব্য করেন, “যদি চোখ বন্ধ করে কাউকে বিশ্বাস করতে বলা হয়, আমি জেন জি-দেরই বিশ্বাস করব।”
শুধু আন্দোলন নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেবল চাকরিমুখী না করে উদ্যোক্তা তৈরির দিকেও জোর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রতি অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাবের বার্তাও দেন ভাগবত। সমপ্রেমী ও রূপান্তরকামী মানুষদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের একঘরে না রেখে সম্মানের সঙ্গে সমাজে থাকার উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা থাকা উচিত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নিট আন্দোলনের পর তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে বিজেপি ও আরএসএস যে নতুন কৌশল নিচ্ছে, মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



