বাংলাদেশিদের জন্য ফের টুরিস্ট ভিসা, খুশির হাওয়া হিলি সীমান্তে

সবদিক নিউজ: বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: দীর্ঘ প্রায় দু’বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ফের টুরিস্ট ভিসা চালু করতে চলেছে ভারত সরকার। আগামীকাল থেকে এই পরিষেবা চালু হওয়ার খবর ছড়াতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হিলি চেকপোস্ট এলাকায় দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা যাত্রীদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারত সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মূলত মেডিকেল ও ছাত্র ভিসা প্রদান করছিল। ফলে হিলি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন যাত্রী এই সীমান্ত ব্যবহার করতেন, সেখানে গত দু’বছরে সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০-র মধ্যে।টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের যাতায়াত আবার বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা সাদিয়া, যিনি সম্প্রতি মেডিকেল ভিসায় ভারতে এসে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরছেন, বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।
দীর্ঘদিন ধরে টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় অনেকেই ভারতে বেড়াতে আসতে পারছিলেন না। ভারতের বহু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ ছিল না। এখন আবার সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আশা করছি, পরবর্তীবার আমি মেডিকেল নয়, টুরিস্ট ভিসা নিয়েই ভারতে আসতে পারব। অন্যদিকে হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ী অংশুমান সাহা বলেন, টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়া সীমান্ত এলাকার ব্যবসার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। যাত্রী সংখ্যা বাড়লে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। যদিও ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী নতুন নিয়ম বা মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশাবাদী, এই সিদ্ধান্ত সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে। স্থানীয়দের মতে, টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি সীমান্ত এলাকার ব্যবসা, পর্যটন ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।



