0%

বাসি রুটি খেলে কী কী উপকার হয় জানেন!

সকালবেলা জলখাবারের টেবিলে গতরাতের বেঁচে যাওয়া দুই-তিনটে শক্ত রুটি দেখলেই সকলের মুখ ভার। গৃহিণীরা ভাবেন এটা দিয়ে কী হবে, আর বাড়ির বাকিরা তো বাসি রুটির নাম শুনলেই নাক সিঁটকোয়। অগত্যা সেই রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে অথবা রাস্তার ধারের কোনো অবলা প্রাণীর মুখে। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে রুটিটাকে আপনি ফেলে দিচ্ছেন, আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক বিজ্ঞান বলছে সেটিই আসলে আপনার শরীরের জন্য এক ‘সুপারফুড’?

শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। টাটকা গরম রুটির চেয়ে ১২-১৫ ঘণ্টা আগের বাসি রুটি শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। বিশেষ করে যারা পেটের সমস্যা বা রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি ওষুধের মতো কাজ করে।

কেন বাসি রুটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মহৌষধ?

রেজিস্টিং স্টার্চ– গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গমের রুটি যখন দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা অবস্থায় রাখা হয়, তখন তার মধ্যে থাকা স্টার্চ বা শর্করা ‘রেজিস্টিং স্টার্চ’ (Resistant Starch)-এ রূপান্তরিত হয়। টাটকা গরম রুটির শর্করা রক্তে দ্রুত মিশে যায়, কিন্তু বাসি রুটির এই রেজিস্টিং স্টার্চ হজম হতে সময় নেয়। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar) হঠাৎ বাড়তে দেয় না। যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক উপায় এই বাসি রুটি।

প্রো-বায়োটিক– পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, বাসি রুটিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। এটি আমাদের অন্ত্রে ‘প্রো-বায়োটিক’ হিসেবে কাজ করে। ল্যানসেট বা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে অন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের জন্য ফাইবার ও রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা থাকে এই রুটিতেই।তাই বাসি রুটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাব– যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন আছে, তাদের জন্য ঠান্ডা দুধ ও বাসি রুটির কম্বিনেশন খুবই কার্যকরী। বাসি রুটিতে থাকা কার্বোহাইড্রেট এবং দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিডের বিক্রিয়া রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে। এটি শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়াম শোষণে বাধা দেয়, ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ– ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ুতে বাসি রুটি এবং ঠান্ডা দুধ দিয়ে ব্রেকফাস্ট বেশ জনপ্রিয় ছিল। চিকিৎসকদের মতে, এই খাবার শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা (Body Temperature) বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ‘হিট স্ট্রোক’ প্রতিরোধে বাসি রুটির ভূমিকা অপরিসীম।

বাসি রুটির উপকারিতা থাকলেও বেশ কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
রুটিটি যেন ১২-১৫ ঘণ্টার বেশি বাসি না হয়।
রুটিতে কোনো রকম নীল বা সাদা ছত্রাক (Fungus) দেখা দিলে তা ভুলেও খাবেন না।
রুটিটি পরিষ্কার এবং শুকনো জায়গায় রাখা জরুরি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker