0%

ভোকেশনাল বিভাগের ফলাফলে চমক বাঁকুড়ার, মেধাতালিকায় ৯ জনের জায়গা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : উচ্চ মাধ্যমিকের ভোকেশনাল বিভাগের ফল প্রকাশের পর এ বছর শিক্ষামহলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বাঁকুড়া জেলা (Bankura)। রাজ্যের মেধাতালিকায় প্রথম দশের মধ্যে একাধিক ছাত্রছাত্রীর নাম উঠে এসেছে এই জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে।সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে তালডাংরার কার্তিক ওঁরাও নতুনগ্রাম-সারেসকানালি সম্মিলনী আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই বিদ্যালয় থেকেই রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে চার পড়ুয়া। সকলেই কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

উচ্চ মাধ্যমিকের ভোকেশনালে নজরকাড়া বাঁকুড়া (Bankura)

উচ্চ মাধ্যমিকের ভোকেশনাল বিভাগে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সায়ন মণ্ডল। একই বিদ্যালয়ের তুফান লায়েক দ্বিতীয়, অতনু দণ্ডপাট তৃতীয় এবং কৃষ্ণেন্দু ঘোষ ষষ্ঠ স্থান দখল করেছে। একসঙ্গে চার ছাত্রের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশির আবহ স্কুলজুড়ে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি গর্বিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।

শুধু এই স্কুলই নয়, গোটা বাঁকুড়া জেলার ফলাফলই এবারে নজর কেড়েছে। প্রথম দশের মেধাতালিকায় থাকা মোট ১৫ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৯ জনই বাঁকুড়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। বিষ্ণুপুরের মুনিনগর রাধাকান্ত বিদ্যাপীঠের ছাত্রী সাথী ধীবর রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এছাড়াও মধুবন গোয়েঙ্কা বিদ্যালয়ের ছাত্র রঙ্কিত মালস চতুর্থ এবং একই স্কুলের জিৎ শিট সপ্তম স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে, সিমলাপাল মদনমোহন হাইস্কুলের ছাত্র নীলেশ দে পঞ্চম এবং পুরন্দরপুর হাইস্কুলের ছাত্র রাহুল সিংহ দশম স্থানে রয়েছে। বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে এসে এই সাফল্য অর্জন করায় উচ্ছ্বসিত জেলার শিক্ষামহল।

কার্তিক ওঁরাও নতুনগ্রাম-সারেসকানালি সম্মিলনী আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্তি দণ্ডপাঠ বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হলেও আমাদের বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের পড়ুয়ারা গত কয়েকবছর ধরে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। এবছরও চারজন ছাত্র মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি।”

মুনিনগর রাধাকান্ত বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মিত্তন ধক বলেন, “গতবছরও আমাদের বিদ্যালয় থেকে ভোকেশনাল বিভাগে একজন ছাত্রী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছিল। এবছর সাথী ধীবর দ্বিতীয় হয়েছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি।”

রাজ্যে প্রথম হওয়া সায়ন মণ্ডলের বাড়ি তালডাংরায়। ছোট থেকেই কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার আগ্রহ ছিল তার। ভবিষ্যতেও এই বিষয় নিয়েই উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার ইচ্ছা রয়েছে সায়নের। সে বলে, “কৃষি নিয়ে পড়ার ইচ্ছে আমার প্রথম থেকেই ছিল। তাই মাধ্যমিক পাশ করার পর আমি কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভোকেশনাল বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম। পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। তবে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হব তা ভাবিনি। এরপর কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে বিএসসিতে ভর্তি হব। ভবিষ্যতে কৃষি নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা রয়েছে।”

দ্বিতীয় স্থানাধিকারী সাথী ধীবরের বাড়ি বিষ্ণুপুরের উলিয়াড়া গ্রামে। কৃষক পরিবারে বড় হওয়ায় চাষবাসের প্রতি ছোট থেকেই আলাদা টান তৈরি হয়েছে তার। ভবিষ্যতে কম খরচে বেশি ফলন কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে গবেষণা করতে চায় সে। সাথী বলে, “আমি কৃষক পরিবারের মেয়ে। ছোটো থেকেই চাষবাসের উপর ঝোঁক রয়েছে। কৃষি বিজ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা। আগামী দিনে কম খরচে কিভাবে উচ্চফলনশীল ফসল উৎপাদন করা যায় সে ব্যাপারে গবেষণা করতে চাই।”

Bankura surprises with vocational department results in Higher secondary

আরও পড়ুন : পুর দুর্নীতি রুখতে কড়া নজর, গঠন হল ৪ সদস্যের কমিটি

চলতি মাসের ১৫ তারিখ ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট দপ্তর ২০২৬ সালের ভোকেশনাল বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। এবারের মেধাতালিকায় প্রথম দশে মোট ১৫ জন স্থান পেয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নেওয়া এই ছাত্রছাত্রীরা ফের প্রমাণ করল, সঠিক পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্যের পথে কোনও বাধাই বড় নয়। বিশেষ করে কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার প্রতি নতুন প্রজন্মের এই আগ্রহ ভবিষ্যতের কৃষিক্ষেত্রের জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker