0%

সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করায় ফের হুমকি পাকিস্তানের! এবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি বিলাওয়াল ভুট্টোর

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিতকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান (Pakistan) সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই আবহে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি (Bilawal Bhutto Zardari)। ইসলামাবাদে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জলসম্পদের অধিকার খর্ব করার যে কোনও প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি তিনি পাকিস্তানের পারমাণবিক নীতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর দাবি, দেশের জলপথ অবরুদ্ধ করা বা অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলাওয়ালের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করায় ভারতের বিরুদ্ধে ফের হুমকি পাকিস্তানের (Pakistan)!

ইসলামাবাদে আয়োজিত ওই আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলাওয়াল বলেন, কেউ যদি মনে করেন পাকিস্তান সিন্ধু অঞ্চল বা তার জলসম্পদের অধিকার ছেড়ে দেবে, তবে তারা পাকিস্তানের ইতিহাস ও জনগণের মানসিকতা সম্পর্কে অবগত নন। তাঁর কথায়, পাকিস্তান শান্তি, মর্যাদা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়, কিন্তু কোনও চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, সিন্ধু নদ শুধুমাত্র একটি নদী নয়, এটি পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের জীবন, কৃষি এবং অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই ইস্যুকে ইসলামাবাদ অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবেই দেখছে।

আরও পড়ুন:বাবা দিনমজুর, গয়না বিক্রি করে পড়িয়েছেন মা! মাটির ঘরে থেকে অভাবকে জয় করেই IAS অফিসার হলেন পবন

সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ভারতের দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে বারবার সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ করে আসছে, ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। যদিও ভারত বহুবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে ভারতের অবস্থান।

বিলাওয়াল ভুট্টোর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে পাকিস্তানের পারমাণবিক নীতির প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, দেশের জলসম্পদ বা অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কেবল পরিবেশগত বা কূটনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখা হবে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই কড়া রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনও নীতিগত ঘোষণা করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জলসম্পদ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও সংলাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই ধরনের ইস্যু দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: ইতিমধ্যেই ১,৩০০-রও বেশি মৃত্যু! ইউরোপে তাপপ্রবাহে গলছে ট্রাম লাইন, সতর্ক করে কী জানাল WHO?

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। গত কয়েক দশক ধরে নানা রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও এই চুক্তি কার্যকর ছিল। তবে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলা, সীমান্ত উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের আবহে এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ভারত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রশ্নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে। ফলে সিন্ধু জলচুক্তিকে ঘিরে আগামী দিনে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker