0%

৫ বছরেই ছেড়ে গেলেন বাবা, বলিউডের এই সুপারস্টারের করুণ জীবনকাহিনী, সাফল্যের পথে..

 বলিউডে সাফল্যের পথ সবার জন্য এক নয়। কেউ শাহরুখ খানের মতো শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পান। আবার কেউ কেউ, মনোজ বাজপেয়ী, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, রাজপাল যাদবের মতো বহু বছর সংগ্রাম করে পরিচিতি পান। আবার হৃতিক রোশন বা আহান পান্ডের মতো তারকা-সন্তানরা রাতারাতি জনপ্রিয় হন, কিন্তু খুশি কাপুরের মতো কেউ কেউ একের পর এক ছবি করেও দর্শকদের মন ছুঁতে পারেন না। এই বৈচিত্র্যের মাঝেই ১৯৯৭ সালে বলিউডে পা রাখেন অক্ষয় খান্না। বিনোদ খান্নার ছেলে হয়েও তার সাফল্য ছিল ধীর, স্থির আর নিজস্ব পরিশ্রমের ফল।

শুরুতেই বিশাল জনপ্রিয়তা না পেলেও অক্ষয় ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ২০২৫ সাল তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘ছাভা’-তে ঔরঙ্গজেব এবং ‘ধুরন্ধর’-এর রেহমান ডাকাইত চরিত্রে, তাঁর অভিনয় সিনেমা-প্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। বিশেষ করে ফা৯লা গানে তাঁর নাচ ভাইরাল হয়ে তাঁকে “ন্যাশনাল ক্রাশ”–এ পরিণত করেছে। তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি মাত্র ৪৮টি সিনেমা করেছেন, কারণ তিনি কখনওই কাজের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাননি। তাঁর মতে, “অভিনেতা হয়ে কাজ না পাওয়ার সময়টাই সবচেয়ে কঠিন।”

Nachiketa chakraborty: খাঁচা ভেঙ্গে বেরলেন, এখন কেমন আছেন নচিকেতা?

অক্ষয়ের অভিনয়ের ইচ্ছা ছোটবেলাতেই জন্মায়। যদিও তাঁর বাবা বিনোদ খান্না মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, পরিবার ছেড়ে ওশোর আশ্রমে যোগ দেন। তবুও অক্ষয় বাবার জন্যই অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। ১৯৯৭ সালে ‘হিমালয় পুত্র’ দিয়ে তাঁর অভিষেক হয়, যদিও এটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়নি। পরে ‘বর্ডার’, ‘তাল’, ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘হাঙ্গামা’, ‘এলওসি কারগিল’, ‘হলচাল’ এবং ‘রেস’-এ তাঁর অভিনয় তাকে বলিউডে শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

তবে তাঁর জীবনে হতাশার মুহূর্তও কম ছিল না। একাধিক বড় প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়েছে। যেমন ‘ভয়েস ফ্রম দ্য স্কাই’, ‘ডন ২’ এবং ‘তারে জমিন পর’। এমনকি অমোল গুপ্তে প্রথমে তাঁকেই ছবির জন্য ভেবেছিলেন, পরে আমির খান চিত্রনাট্য শুনে ভূমিকা নিজেই নিয়ে নেন।

Dharmendra-Hema Malini: ‘বাঁচতে শিখতে হবে আমায়’, দিল্লিতে ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা, রাজ-নেতাদের সম্মুখে সত্য-প্রেমের কথা শোনালেন হেমা

ব্যক্তিগত জীবনে অক্ষয় অবিবাহিত। বহু বছর ধরে তাঁর নাম বিভিন্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তবে তিনি কখনও সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “প্রেম গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু হয়তো আমি আঘাত পাওয়ার ভয় পাই, তাই এখনো কাউকে জীবনে আনতে পারিনি।” বাবা-মায়ের অপ্রচলিত সম্পর্ক এবং শৈশবের অভিজ্ঞতাও, তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তবুও অক্ষয়ের বিশ্বাস ছিল, শিল্পী হিসেবে তিনি যতদিন সত্যিকারের কাজ করতে পারবেন, ততদিন তাঁর যাত্রা চলবে নিজের গতিতে, নিজের নিয়মে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker