0%

পশুবলিতে জারি কড়া শর্ত! প্রকাশ্য স্থানে পশু হত্যায় ৬ মাসের জেলের নির্দেশ নবান্নের

সবদিক নিউজ: পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার থেকে রাজ্যে যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশুবলি দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশুর ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

শংসাপত্র ছাড়া বলি অসম্ভব

সরকারের নয়া নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পশুবলি দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসকের কাছ থেকে যৌথ শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। শংসাপত্র দেওয়ার আগে পশুটির বয়স ও শারীরিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে।

পশুবলির ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো মানতেই হবে:

  • পশুটির বয়স অন্তত ১৪ বছরের বেশি হতে হবে।

  • বার্ধক্য, বড় কোনও আঘাত বা দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে পশুটি স্থায়ীভাবে অক্ষম কি না, তা যাচাই করবেন চিকিৎসকরা।

  • যদি কেউ মনে করেন যে তাঁকে অন্যায়ভাবে শংসাপত্র দেওয়া হয়নি, তবে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

নিষিদ্ধ প্রকাশ্য স্থানে বলি

শংসাপত্র থাকলেও যত্রতত্র বা রাস্তার ধারে পশুবলি দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি বা প্রশাসন অনুমোদিত কসাইখানাতেই (Slaughterhouse) এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। লোকচক্ষুর অন্তরালে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অমান্য করলে জেল

এই নির্দেশিকা অমান্য করলে তা ‘আদালত গ্রাহ্য অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল অথবা ১,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন রায়কে মাথায় রেখেই ১৯৫০ সালের আইনকে প্রয়োগ করছে রাজ্য। বিস্তারিত তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট http://wbard.gov.in-এ আপলোড করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি। তাঁদের মতে, ধর্মের দোহাই দিয়ে পশুর ওপর অত্যাচার বন্ধে এই আইন এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker