0%

ট্রাম্পের গোঁয়ার্তুমিতে বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ! বীরের মর্যাদায় দেশে ফিরলেন সোমালিয়ার রেফারি

বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার স্বপ্ন ছিল সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আর্তানের। দেশের ইতিহাসে প্রথম রেফারি হিসাবে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে দায়িত্ব পালনের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ট্রাম্পের গোঁয়ার্তুমিতে সেই স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। আমেরিকার অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির কারণে সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে গেল। তবে দেশে ফিরে তিনি পেলেন বীরের সম্মান।

ওমরের দাবি, মায়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বন্দিদের জন্য নির্ধারিত একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে কোনও স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই তাঁকে তুরস্কের ইস্তানবুলে ফেরত পাঠানো হয়। কেন আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল না, সে বিষয়েও কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া ওমর এই ঘটনায় ভীষণ হতাশ। তাঁর কথায়, “আমি খুবই মর্মাহত। একজন সাধারণ রেফারি হিসাবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার সব কাগজপত্র এবং বৈধ ভিসা ছিল। তবু মনে হচ্ছে, আমার দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের কারণেই আমাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।”

সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমরের কাছে বৈধ মার্কিন ভিসা এবং সোমালিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোমালিয়ার প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক সিসে আদেন আবশির। তিনি বলেন, “ওমর আর্তান আফ্রিকার অন্যতম সম্মানিত রেফারি। তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়। এটি ফুটবলের ন্যায্যতা, যোগ্যতা এবং ফেয়ার প্লে-এর আদর্শকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।”

উল্লেখ্য, রেফারিংয়ের পাশাপাশি সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতার দায়িত্বও পালন করেন ওমর। এদিকে পুরো ঘটনার দায় এড়িয়ে গেছে ফিফা। তাদের বক্তব্য, আয়োজক দেশের অভিবাসন নীতির উপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে কেন ওমরকে কানাডা বা মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ফিফা কিছু বলেনি। তবে বুধবার মোগাদিশুর আদেন আবদুলে ওসমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর প্রত্যাবর্তনে কোনওভাবেই হতাশার ছবি ফুটে ওঠেনি ওঠেনি। বিমানবন্দরে শত শত সমর্থক, ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তা এবং সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে তাঁকে বীরের সম্মান জানান। ব্যানার, স্লোগান আর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে অভিভূত আর্তান বলেন, “আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আল্লা চাইলে পরের বিশ্বকাপে অবশ্যই উপস্থিত থাকব। সোমালিয়ার মানুষ যেন এ ঘটনায় সান্ত্বনা খুঁজে নেন এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখেন।”

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker