বাংলায় গড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানা! দিনে কত দই উৎপাদন হবে জানেন?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই শিল্পায়নকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিল নতুন সরকার (West Bengal Government)। ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সরকারের। এবার হাওড়ায় গড়ে উঠতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী কারখানা (Largest Yogurt Factory)। এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্যের দুগ্ধ শিল্প, কৃষক এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হচ্ছে।
রাজ্যে বৃহত্তম দই কারখানা (Largest Yogurt Factory) খুলছে সরকার
নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টার থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও ভূমিপূজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির। হাওড়া ফুড পার্কে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে এই অত্যাধুনিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে আমুল। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম দই এবং বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে এই কারখানার। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারখানায় প্রতিদিন ১০ লক্ষ লিটার প্যাকেটজাত দুধ উৎপাদন হবে। এছাড়াও ২ লক্ষ লিটার ইউএইচটি (UHT) দুধ প্রক্রিয়াকরণ, ১ লক্ষ লিটার আইসক্রিম উৎপাদন, ২০ মেট্রিক টন পনির, ১০ মেট্রিক টন ঘি এবং ১০ মেট্রিক টন মিষ্টি তৈরির ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।
রাজ্যে আমুলের সমবায় নেটওয়ার্কও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি দুধ উৎপাদক এই সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি মহিলা সদস্য, যা গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : গড়লেন নতুন ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে জাপান ওপেন জিতলেন পিভি সিন্ধু
বর্তমানে এই সমবায়ের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৯ লক্ষ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। নতুন কারখানা চালু হলে এই সংগ্রহের পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়াকরণ, মূল্য সংযোজন এবং উন্নত বিপণন ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু একটি নতুন কারখানাই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ শিল্প, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সমবায়ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার জন্যও একটি নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।




