Arup Roy Posters Howrah Trinamool Split Ritabrata Banerjee

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই আদি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙন ধরেছে, তা এবার কলকাতার সীমানা ছাড়িয়ে আছড়ে পড়ল হাওড়া জেলাতেও। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ‘নতুন তৃণমূল’। আর সেই শিবিরে হাওড়ার দাপুটে নেতা তথা মধ্য হাওড়ার বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়ের (Arup Roy) যোগদানের জল্পনা ছড়াতেই সোমবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। সোমবার সকালে মধ্য হাওড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের বাড়ির সামনে ও তার আশপাশের এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে দেখা গেল প্রচুর বিতর্কিত ব্যানার ও পোস্টার। যেখানে সোজাসুজি অরূপ রায়কে ‘বেইমান’ ও ‘গদ্দার’ তকমা দেওয়া হয়েছে।
ছবির গলায় জুতোর মালা! দেওয়ালে দেওয়ালে তীব্র কটূক্তি
সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, শুধু অরূপ রায়ের বাড়ির সামনেই নয়, মধ্য হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোড, শ্যামাশ্রী সিনেমা হলের আশপাশের একাধিক দেওয়ালে এই ধরণের ক্ষোভ উগরে দেওয়া ব্যানার ঝুলছে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ব্যানারগুলিতে শুধু লেখাই নেই, লেখার পাশে অরূপ রায়ের একটি বড়ো ছবি দেওয়া রয়েছে এবং সেই ছবিতে বিধায়কের গলায় স্পষ্ট জুতোর মালা পরানো হয়েছে।
ব্যানারগুলির একটিতে লেখা রয়েছে, “জন্মলগ্ন থেকে দিদির দলকে হাওড়ায় এক এক করে শেষ করে দেওয়ার মূল কাণ্ডারি বেইমান-গদ্দার অরূপ রায়।” অন্য একটি ব্যানারে আরও মারাত্মক অভিযোগ তুলে লেখা হয়েছে, “১৫ বছর সাধারণ কর্মীদেরকে বঞ্চনা করে তোলাবাজি, চুরি, খুন, দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে আর এখন দিদির সাথেই বেইমানি।” এই সমস্ত পোস্টারের একদম নিচে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে,“আমরা দিদির সৈনিক।”
আদি বনাম নব্যর লড়াই, ফোনের ওপারে নীরব বিধায়ক
কারা মাঝরাতে এসে বিধায়কের বাড়ির সামনে এই ধরণের চরম অপমানজনক ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়ে গেল, তা নিয়ে সরকারিভাবে কোনও নাম সামনে আসেনি। তবে জেলা তৃণমূল সূত্রের খবর, অরূপ রায়ের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত এবং বর্তমানে যাঁরা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর অনুগামী, সেই স্থানীয় নেতারাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। দলের একাংশের দাবি, অরূপ রায় গোপনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেওয়ায়, যাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন, তাঁরাই ক্ষুব্ধ হয়ে হাওড়া শহর জুড়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
তবে এই ব্যানার বিতর্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি স্বয়ং অরূপ রায়। ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কোনও বক্তব্য রাখব না।” অন্যদিকে, এই ঘটনাকে তৃণমূলের মরণকামড় হিসেবে দেখছে পদ্মশিবির। বিজেপির হাওড়া জেলা সদর সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, “এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। এটা সম্পূর্ণ তৃণমূলের আদি ও নব্য গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ। তবে অরূপ রায় হাওড়ায় গত ১৫ বছরে কী কী কুকীর্তি করেছেন, সেটা দলমত নির্বিশেষে সমাজের সব স্তরের মানুষই ভাল করে জানেন। তাই হয়তো তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মীরাই এই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।” সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের এই ডামাডোলে হাওড়ার রাজনীতি এখন ফুটছে।



