0%

এবার শান্তিনিকেতনেও তৈরি হবে ‘এইমস’! চিকিৎসা পরিষেবায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বিশ্বভারতীর

সৌতিক চক্রবর্তী, বোলপুর: শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান শান্তিনিকেতন এবার চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্তের পথে। বিশ্বভারতী-র উদ্যোগে এইমসের আদলে অত্যাধুনিক সুপার স্পেশালিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’ নামে প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বীরভূম নয়, গোটা দক্ষিণবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জাতীয় মেডিকেল কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের আবেদন জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বিষয়টি ঘিরে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দা, আশ্রমিক, পড়ুয়া ও চিকিৎসক মহল।

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে একত্রিত করেই এই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও এই বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি জানান। তাঁর কথায়, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন, পাশাপাশি আধুনিক পরিকাঠামোর মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বভারতীর অধীনে থাকা পিয়ার্সন মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতালকেও এই নতুন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা, গবেষণা কেন্দ্র এবং আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরেই বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। জটিল অসুস্থতার ক্ষেত্রে এখনও রোগীদের কলকাতা বা অন্য বড় শহরের হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়। অথচ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শান্তিনিকেতনে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ আসেন। সেই তুলনায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হয়ে এসেছে। কোভিড পরিস্থিতির সময়েও শান্তিনিকেতনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। অক্সিজেন, বেড এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে বহু মানুষকে কলকাতামুখী হতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর থেকেই উন্নত মানের মেডিক্যাল কলেজ ও বহুমুখী হাসপাতালের দাবি আরও জোরালো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বভারতীর মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠলে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনিশিয়ান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, বিশ্বভারতীর এই উদ্যোগ এখন বীরভূমবাসীর কাছে এক বড় আশার আলো হয়ে উঠেছে। তবে এখন নজর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক, জাতীয় মেডিকেল কমিশন এবং রাজ্য সরকারের অনুমোদনের দিকে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker