0%

কমলার খোসা ফেলে দিচ্ছেন? গুণ জানলে ভুল করবেন না

শীত মানেই বাড়িতে আসে কমলালেবু। কমলেলেবু খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কেউ সকালে ফল হিসেবে খান, কেউ আবার জুস বানিয়ে। কিন্তু শেষ হলেই বেশিরভাগ মানুষ যেটা করেন, তা হল খোসাটা বিনা দ্বিধায় ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেন। সাম্প্রতিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও গবেষণা বলছে, এই খোসার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে শরীর, ত্বক ও ঘরের কাজে লাগার মতো একাধিক উপকারী গুণ।

পুষ্টিবিদদের মতে, কমলার খোসায় ভিটামিন C ও ফাইবারের পরিমাণ অনেক সময় ফলের শাঁসের থেকেও বেশি থাকে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অল্প পরিমাণ শুকনো কমলালেবুর খোসাতেই থাকে ভিটামিন সি, এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও কোষের ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

শুধু তাই নয়, কমলার খোসায় থাকে ‘হেসপেরিডিন’ নামে একটি শক্তিশালী ফ্ল্যাভোনয়েড। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই উপাদান শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের অক্সিডেটিভ ক্ষতি রোধ করে।

কমলার খোসায় থাকা পেকটিন জাতীয় ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফাইবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে খোসা ব্যবহার করলে গাট হেলথ ভালো থাকার সম্ভাবনা বাড়ে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

আয়ুর্বেদশাস্ত্রে বহুদিন ধরেই কমলালেবুর খোসার ব্যবহার রয়েছে। আধুনিক গবেষণাও বলছে, খোসার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, মৃত কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। তাই অনেকেই শুকনো কমলার খোসা গুঁড়ো করে ফেস প্যাক বা স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করেন।

পরিষ্কার করে নেওয়া কমলার খোসা চা, খাবারের স্বাদ বাড়াতে কাজে লাগে। কৃত্রিম রাসায়নিকের ব্যবহারের বদলে প্রাকৃতিক ফ্রেশনার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বাজারের কমলার খোসায় কীটনাশকের প্রভাব থাকতে পারে। তাই খোসা ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে ব্যবহার করাই নিরাপদ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker