0%

চিনে অভ‌্যর্থনা জানাল রোবট, ছবি আর নাচগানে ড্রাগনের দেশ মাতাচ্ছে বাঙালিরাই

এই পাহাড়ি গ্রাম একসময় এতটাই দরিদ্র ছিল যে, সেখানে উড়ত না পাখিও। তাই সেই গ্রামকে সবাই ‘আনি মো’ বলেই ডাকত। বহু বছর পর সেখানে আসেন এক গায়ক। তাঁর নাম লিওন খাং। তিনি সেখানে থাকতে শুরু করেন। গ্রাম জুড়ে শুরু হয় সুরের মূর্চ্ছনা। ‘আনি মো’ ক্রমে হয়ে ওঠে ঝকঝকে পরিষ্কার একটি সঙ্গীত গ্রাম। শোনা যেতে থাকে পাখির ডাকও।

চিনের ইউনানের এই প্রত‌্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম মাতাচ্ছে বাঙালিরাই। বাংলা আর ভারতীয় প্রাদেশিক গান আর নাচে ভরে উঠল ‘আনি মো’। যদিও এর শুরুটা হয়েছিল চিনের ইউনানের কুনমিং শহরে। কলকাতার কনসাল জেনারেল অফ পিপলস রিপাবলিক অফ চায়নার উদ্যোগে সপ্তম চায়না সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে কুনমিং আর দালি শহরে পৌঁছেছিলেন কলকাতা-সহ পূর্ব ভারত ও উত্তর পূর্ব ভারতের শিল্পীরা। উদ্দেশ‌্য, সাংস্কৃতিক ভাব আদানপ্রদান। সঙ্গীতশিল্পী অর্ক মুখোপাধ‌্যায়ের নেতৃত্বে দশজনের দলে ছিলেন তিন নৃত‌্যশিল্পী নিলয় সেনগুপ্ত, অনুস্মিতা ভট্টাচার্য, ভুবনেশ্বরের সাগরিকা মোহান্তি। ছিলেন কবি ও গায়িকা ফুল্লরা মুখোপাধ‌্যায়, মণিপুরের গায়ক থাংজামাং কিপগেন, চিত্রশিল্পী যুগল সরকার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের
‘ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ’ – এর পাতায়।

চোখ রাখুন

আরও পড়ুন:

সঙ্গীতশিল্পী অর্ক মুখোপাধ‌্যায়ের নেতৃত্বে দশজন পারফর্ম করলেন কুনমিং ও দালি শহরে। নিজস্ব ছবি

এই দলে ছিলেন তিনজন সাংবাদিকও। তাঁদের মধ্যে ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিনিধি ছাড়াও ছিলেন একটি সর্বভারতীয় হিন্দি সংবাদমাধ‌্যমের সাংবাদিক রবিশংকর দত্ত ও একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ‌্যমের সাংবাদিক অর্কময় দত্ত মজুমদার। এই দলকে সাহায‌্য করতে সবসময় তৈরি ইউনান বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ঝাং ঝে আর উ না। ১১ জুনে কুনমিংয়ের হাইকেং কনফারেন্স হলে ফোরামের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন ভারত, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল-সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির প্রতিনিধিরাও।

কুনমিংয়ের হাইকেং কনফারেন্স হলে ফোরামের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন ভারত, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল-সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির প্রতিনিধিরাও। নিজস্ব ছবি

ছবির মতো তিয়ান চি লেকের পাশে ভবনটিতে প্রবেশের সময়ই অতিথিদের অভ‌্যর্থনা জানায় রোবট। শুধু ‘নি শি, নি শি’ বললেই সে এগিয়ে এসে হাত মেলায় অতিথিদের সঙ্গে। এমনকী, নিজের সম্পর্কে চার কথা শুনিয়েও দেয়। আর তার সঙ্গে রোবট সারমেয়। মাথায় হাত বোলালেই সে আহ্লাদে আটখানা। যেন উঠে দাঁড়িয়েও আদর খেতে চায়

চিনে বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানায় রোবট। নিজস্ব ছবি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে অন‌্য হলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফুল্লরা মুখোপাধ‌্যায় ও অর্ক মুখোপাধ‌্যায়ের বাংলা আর প্রাদেশিক গানের সঙ্গে তিন নৃত‌্যশিল্পী নিলয়, অনুস্মিতা, সাগরিকার লোকনৃত‌্য অনুষ্ঠান মাতিয়ে তোলে। এর পরও কুনমিংয়ের ইউনান ফেডারেশন অফ লিটারেসি অ‌্যান্ড আর্ট সার্কেলস ও ইউনান আর্টস ইউনিভার্সিটিতে চিনা শিল্পীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময় হয় কলকাতা থেকে আসা বাঙালি, ওড়িয়া, মণিপুরি শিল্পীদের। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় শিল্পী যুগল সরকারের আঁকা বেশ কিছু চিত্রশিল্প। অর্ক, থাংজামাং, ফুল্লরার গান ও কবিতা, নিলয়ের নৃত‌্য ও কোরিওগ্রাফি, অনুস্মিতা এবং সাগরিকার ওড়িশি নৃত্যে মেতে ওঠে চিন।

ইউনানের আদিবাসী গ্রামের সংস্কৃতি চর্চা। নিজস্ব ছবি

সেই রেশ থেকে যায় ইউনানের আদিবাসী গ্রামে, যেখানে থাকেন ২৫টি সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানে কৃষ্ণবাঁশি ‘থু লিয়াং’ বাজান থিম্পো সম্প্রদায়ের ছিং ফু। সেই বাঁশির সঙ্গেও লোকগীতি গেয়ে ওঠেন অর্ক। আবার ওহা সম্প্রদায়ের ড্রামের তালে নেচে ওঠেন থাংজামাং, নিলয়, অনুস্মিতা, সাগরিকারা। চিনের ইউনানের অন‌্য শহর দালির পাহাড়ি সঙ্গীত গ্রাম ‘আনি মো’য় থাকেন ইই সম্প্রদায়ের মানুষরা। এই গ্রাম আখরোটের গ্রামও। পাহাড়ি রাস্তার মোড়ে মোড়ে রয়েছে পুরনো মডেলের টিভি। সেখানে শুধু দেখানো হয় গানের অনুষ্ঠান। চিন সরকারের প্রচেষ্টায় এই গ্রামে তৈরি হয়েছে লোকশিল্পীদের মঞ্চ। সেই মঞ্চেও বেজে ওঠে অর্ক মুখোপাধ‌্যায়ের খমক। অর্কের গানের সঙ্গে তিন নৃত‌্যশিল্পীর নাচ আর অর্কময়ের লোকগীতিতে ভরে ওঠে ‘আনি মো’। কয়েক বছর আগে ভূমিকম্পে ভেঙে গিয়েছিল গ্রামের বহু আসবাব। এখন সেই ভাঙা আসবাবেই গাছ পুঁতে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে এই গ্রাম। এই বিশ্বে যে কিছুই স্থায়ী নয়, সেই বার্তাই দিচ্ছে ‘আনি মো’।

আরও পড়ুন:

Fifa World Cup 2026

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের
‘ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ’ – এর পাতায়।

চোখ রাখুন

সর্বশেষ খবর

শেয়ার

লিংক

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker