ছাব্বিশের ভরাডুবির পর প্রথমবার রাস্তায়! শনিবার বেলেঘাটা ও সোনারপুরে ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের দুয়ারে অভিষেক

সবদিক নিউজ: বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর কার্যত ব্যাকফুটে চলে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে নতুন করে অক্সিজেন দিতে এবার চার দেওয়ালের ঘর ছেড়ে সরাসরি ময়দানে নামছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় ‘আক্রান্ত’ দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে আগামী শনিবার থেকে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করছেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রথম দিনেই তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ এবং কলকাতার বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকায় যাবেন। সেখানে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকার ও বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে সশরীরে দেখা করবেন তিনি।
ঘরের অন্দরেই ক্ষোভের আগুন, কুণালের দাবি মেনেই ময়দানে
নির্বাচনে তৃণমূলের নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর থেকে কালীঘাটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। যদিও সামাজিক মাধ্যমে নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁস বা সিবিএসই পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে তিনি সরব ছিলেন, কিন্তু দলের কর্মীরা যখন আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তখন তাঁর ‘অন্তর্ধান’ নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই অভিষেকের পথে না-নামা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, শনিবার নিজের প্রথম কর্মসূচির জন্য কুণাল ঘোষের নির্বাচনী কেন্দ্র বেলেঘাটায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিষেক।
‘বেসুরো’ ঘনিষ্ঠ মহল ও ডায়মন্ড হারবার মডেলের সঙ্কট
তৃণমূলের এই হারের পর দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC) এবং সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছেন দলেরই বহু প্রবীণ নেতা। কাকলি ঘোষ দস্তিদার থেকে শুরু করে শান্তনু সেনের মতো ‘অভিষেক-ঘনিষ্ঠ’ নেতারাও এখন সুর বদলেছেন। এর ওপর ফলতার পুনর্নির্বাচনে তৃণমূল চতুর্থ স্থানে নেমে আসায় অভিষেকের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাই শনিবারের এই সফর থেকে অভিষেক নিজের দলের এই ‘বেসুরো’ নেতাদের কোনো কড়া সাংগঠনিক বার্তা দেন কি না, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
কমেছে নিরাপত্তা, আসরে নামল বিজেপিও
উল্লেখ্য, রাজ্যের নতুন সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি মেনে অভিষেকের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে তাঁর যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেটুকুই বহাল রাখা হয়েছে। নিরাপত্তায় কাটছাঁট হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বড় জেলা সফর।
অন্য দিকে, অভিষেকের এই সফরকে ঘিরে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের মুখপাত্র প্রণয় রায় সাফ জানিয়েছেন, “আমাদের সরকার কোনও হিংসাকে মদত দেয় না। ২০২১ সালের ভোটের পর তৃণমূল যে সন্ত্রাস চালিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এখন হচ্ছে না। মানুষ তৃণমূল নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ। অভিষেকের এই সফরের জেরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়ও তাঁকেই নিতে হবে।”



