ছিলেন ময়দানের বটবৃক্ষ, না ফেরার দেশে টুটু বসু! শোক প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

সবদিক নিউজ: না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপন সাধন বসু। যিনি পরিচিত ছিলেন টুটু বসু (Tutu Bose) নামেই। গত মঙ্গলবার রাত ১১ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনের জগতে কার্যত নক্ষত্রপতন ঘটল। মৃত্যুকালে টুটু বসুর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন টুটু বসু (Tutu Bose):
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, গত সোমবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন টুটু বসু। ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাঁকে। মঙ্গলবার তাঁকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছে যান রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক। এদিকে, টুটু বসুর আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করেন তাঁর অনুরাগীরাও। যদিও, গত মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয়বার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি।

এদিকে, টুটু বসুর মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেটমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ‘মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক শ্রী স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু) মহাশয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’
ফের বাজিমাত ভারতের! আগামী ১ জুন থেকেই এই দেশের সঙ্গে লাগু হবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
তিনি আরও বলেন, ‘মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বসু একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া প্রশাসনে ওনার অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওনার নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি এবং খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ওনার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি। ওঁ শান্তি।’
ফের টান পড়ছে পকেটে! এপ্রিলে কত বাড়ল খুচরো মুদ্রাস্ফীতি? সামনে এল পরিসংখ্যান
উল্লেখ্য যে, ময়দানের বটবৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত টুটু বসু মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাসে এক বিরাট অধ্যায় জুড়ে রয়েছেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মোহনবাগান ক্লাবের সচিব ছিলেন। তারপর ১৯৯৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ২০১৮ সালে টুটু বসু ফির মোহনবাগানের সচিব হন। তবে, বর্তমানে তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ময়দানের প্রতিটি ক্লাবের সমর্থকরাই টুটু বসুকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং সম্মান করতেন। এমতাবস্থায়, এহেন ক্রীড়া প্রশাসকের মৃত্যু যে অপূরণীয় ক্ষতি তৈরি করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।



