0%

‘জিরো টলারেন্স’-এর নজির! কোটি টাকার গাঁজা উদ্ধারের পর পুলিশকে অভিনন্দন শুভেন্দুর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই মাদক উদ্ধার করে আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের বড়সড় নেটওয়ার্কে ভেস্তে দিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। সেই পুলিশের সাফল্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অভিনন্দন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

পুলিশের সাফল্যে অভিনন্দন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)

উল্লেখ্য,‌ সোমবার গভীর রাতে গোবিন্দপুর-বালাসোর ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কে, পুরুলিয়া শহরের প্রবেশপথে বেলকুড়ি রামকৃষ্ণ মিশনের কাছে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। একটি সাধারণ পণ্যবাহী লরি, বাইরে থেকে দেখলে কোনওভাবেই সন্দেহ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সেই লরির তলাতেই ছিল অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বার। আর তার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল প্রায় ৩২২ কেজি গাঁজা।

গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় একটি লরির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেটিকে আটকানো হয়। পাশাপাশি সামনে ও পিছনে চলা আরও দুটি ছোট গাড়িকেও থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। পরে জানা যায়, ওই দুটি গাড়ির কাজ ছিল লরিটিকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।

প্রসঙ্গত, বাইরে থেকে কোনও অসঙ্গতি ধরা না পড়লেও লরির কাঠামো পরীক্ষা করতে গিয়েই পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, নজর এড়ানোর উদ্দেশ্যে গাড়ির নিচে আলাদা একটি লুকোনো অংশ তৈরি করা হয়েছিল। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে এক মেকানিকের সাহায্যে সেই অংশ খোলা হয়। ভিতরে সারি সারি প্যাকেট দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত আধিকারিকরা। প্যাকেটগুলি পরীক্ষা করতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, সেগুলি গাঁজায় ভর্তি।

এরপর ঘটনাস্থলেই ওজন মাপার যন্ত্র এনে বাজেয়াপ্ত মাদকের ওজন করা হয়। মোট প্রায় ৩২২ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি। লরি-সহ তিনটি গাড়িই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযানের পর মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন পশ্চিমবঙ্গের, একজন ওড়িশার এবং তিনজন বিহারের বাসিন্দা। ধৃতরা হলেন পূর্ব বর্ধমানের রাজু পাল ও জীবন দে, পশ্চিম বর্ধমানের উত্তমকুমার সিনহা, ওড়িশার গঞ্জাম জেলার কালিয়া লঙ্কা এবং বিহারের ভোজপুরের দীপককুমার সিং, অজিতকুমার সিং ও বক্সারের রঞ্জিতকুমার প্রসাদ।

এই অভিযানে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পুরুলিয়া পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, ‘গত তিনদিন ধরে মাদক বিরোধী অভিযানে যে পুলিশ টিম এত পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে পাচার রুখেছেন, তাঁদের আমি অভিনন্দন জানাই। মোট ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। পুরুলিয়া পুলিশ দেখিয়ে দিল, যে কোনওরকম অসামাজিক কাজের ক্ষেত্রে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি।’

Suvendu Adhikari congratulates police for recovering narcotics worth crores

আরও পড়ুন :কয়লা পাচার তদন্তে বড় তল্লাশি! ২৫ জায়গায় একযোগে ED-র হানা

সিনেমার কায়দায় তৈরি গোপন চেম্বার ব্যবহার করে পাচারের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। এই অভিযানের পর তদন্তকারীদের নজর এখন গোটা পাচারচক্রের নেপথ্যের মাথাদের দিকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন তথ্য মিলতে পারে বলেই মনে করছে পুলিশ, যা ভবিষ্যতে আরও বড় অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker