0%

তারাতলা কাণ্ডে ফুল অ্যাকশন! গুদাম ধসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার ৫, জারি তদন্ত

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় (Taratala Warehouse Collapse) এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন। ঘটনার পর তদন্তে নেমে গুদামের মালিক-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্মাণের সময় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তারাতলা গুদাম ধস (Taratala Warehouse Collapse)

বুধবার দুপুরে তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ হঠাৎ ভেঙে পড়ে (Taratala Warehouse Collapse)। বিশাল লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। পরে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনীও।

ঘটনার (Taratala Warehouse Collapse) পর বুধবার রাতেই কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামো তৈরির সঙ্গে যুক্ত কমল সামন্ত, ঠিকাদার দিবাকর ভাণ্ডারি এবং নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদনের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার সকালেও উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, এখনও কয়েক জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লোহার বিম সরিয়ে এবং বিভিন্ন অংশ কেটে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বড় ক্রেন, হাইড্রোলিক লিফট এবং গ্যাস কাটার। ধ্বংসস্তূপের ভিতরে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও উদ্ধারকারীরা সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখনও পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৪ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের মধ্যে চার জন নদিয়ার এবং একজন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা। ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক আধিকারিককে নিয়ে এই দল তৈরি করা হয়েছে। তদন্তের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।

পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে গুদামটি তৈরি হচ্ছিল। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে ৩০ বছরের জন্য জমিটি ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামে একটি সংস্থাকে লিজ় দেওয়া হয়েছিল। চা-পাতা সংরক্ষণ ও প্যাকেজিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই সংস্থার অন্যতম কর্ণধার শম্ভুনাথ বেহরা। তাঁর তত্ত্বাবধানেই গুদাম তৈরির কাজ চলছিল।

Taratala warehouse collapses suddenly major accident in

আরও পড়ুনঃ অভিষেকের প্রাক্তন আইনজীবীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ঋতব্রতর! কী নিয়ে হল আলোচনা?

তদন্তকারীরা এখন দেখছেন, নির্মাণের সময় কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না অথবা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। এই সব বিষয় খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে (Taratala Warehouse Collapse)।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker