পার্থের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ, সামনে এল ‘পার্থ-ঘনিষ্ঠ’ ঘনশ্রী বাগের নাম

বাংলা হান্ট ডেস্ক : প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee)বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা এক পুরনো অভিযোগ ফের সামনে এল রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। প্রায় ছয় বছর আগের একটি ঘটনার জেরে এবার ঠাকুরপুকুর থানায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছেন এক গৃহবধূ। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক অপরাধ। একই মামলায় নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ এবং তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীরও। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের(Partha Chatterjee) বিরুদ্ধে অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে অভিযোগকারিণী বলেন, সেই সময় এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি আইনের দ্বারস্থ হতে পারেননি। তবে রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সাহস সঞ্চয় করে ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ঘনশ্রী বাগ, তিলক ভট্টাচার্য এবং সুদীপ ঘোষের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
যেহেতু অভিযোগের সময়কাল ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হওয়ার আগের, তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) আওতায় মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। ঠাকুরপুকুর থানা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার অভিযোগ, তাঁর শ্বশুর বিজেপির সমর্থক হওয়ায় ২০২০ সালে স্থানীয় একটি অশান্তির ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। সেই মামলার জেরে তাঁর শ্বশুরকে কারাবাসও করতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
এরপর শুরু হয় তাঁদের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি। অভিযোগ, জেল থেকে দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একের পর এক হুমকি দেওয়া হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মুখে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ওই গৃহবধূ। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীকালে তাঁদের কাছ থেকে আরও ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন : ১ জুলাই থেকে বড় বদল! শিয়ালদহের ৮ স্টেশনে বন্ধ হচ্ছে রেল রিজার্ভেশন কাউন্টার
অভিযোগকারিণীর দাবি, এই দাবি তুলেছিলেন ঘনশ্রী বাগ এবং তাঁর সহযোগী তিলক ভট্টাচার্য ও সুদীপ ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, গোটা ঘটনার পিছনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও মদত ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং খুনের হুমকিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনার নথি, অভিযোগের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণের উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং অভিযোগগুলির সত্যতা।




