বন্ধ হচ্ছে মঙ্গলাহাটের ফুটপাথ ব্যবসা! পুলিশের নির্দেশে মাথায় হাত ৪০ হাজার ব্যবসায়ীর

সবদিক নিউজ: কলকাতার শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের পর এবার পুলিশের মেগা অ্যাকশনের কোপ পড়ল ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলাহাটে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা হাওড়া ময়দান চত্বরের এই কাপড়ের হাটের ওপর এবার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল হাওড়া সিটি পুলিশ। মঙ্গলবার মঙ্গলাহাটের ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে বসা ব্যবসায়ীদের দুপুর ১২টা পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে বসার অনুমতি দেওয়া হলেও, পুলিশের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী সপ্তাহ থেকে আর কোনAভাবেই রাস্তা কিংবা ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসতে পারবেন না হাটের ব্যবসায়ীরা। নিয়ম ভাঙলে সরাসরি গ্রেফতারের মতো কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
মাঝরাতে পুলিশের হানা, ধৃত ৪ ব্যবসায়ী
পুলিশের এই হুঁশিয়ারি যে কেবল মুখের কথা নয়, তা সোমবার রাতেই টের পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেআইনিভাবে রাস্তা দখল করার অপরাধে সোমবার রাতে ৪ জন হাট ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে হাওড়া থানার পুলিশ। একই সঙ্গে কয়েকশো বস্তা বোঝাই জামাকাপড় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হয়। পুলিশ স্পষ্ট করেছে, আগামী সোম ও মঙ্গলবার যদি কেউ মহাত্মা গান্ধী রোড, ঋষি বঙ্কিম সরণি বা চার্চ রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে, তবে তাঁদেরও একই পরিণতি হবে।
কোন কোন রাস্তায় জারি হল নিষেধাজ্ঞা?
সোমবারই মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের হাওড়া থানায় ডেকে এক হাইভোল্টেজ বৈঠক করেন পুলিশ কর্তারা। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হাওড়া পুরসভা ও জেলাশাসকের দফতরের সামনে, হাওড়া জেলা হাসপাতাল, হাওড়া আদালত, এসডিও অফিস, চার্চ রোড এবং নিত্যধন মুখার্জি রোডের মতো ভিড়ে ঠাসা এলাকায় আর কোনও কাপড়ের দোকান বসবে না। ব্যবসা করতে হবে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট হাট বিল্ডিংয়ের ভেতরে বসে। শুধু তাই নয়, দিনের ব্যস্ত সময়ে হাটের বিল্ডিংগুলো থেকে কোনও রকম মাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে না।
চরম সংকটে বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক মানুষ
পুলিশের এই কড়া সিদ্ধান্তের পর হাওড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতি সেন্ট্রালের সভাপতি মলয় দত্ত সুর নরম করে বলেন, ‘‘আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা সাধারণ মানুষের চলাচলের অসুবিধা করে কখনও ব্যবসা করব না।’’
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে এক বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের মেঘ দেখছেন ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, মঙ্গলাহাটের ১৪টি মূল বিল্ডিং বাদ দিয়ে, সারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার ছোট ব্যবসায়ী এই ফুটপাথ ও রাস্তায় বসে জীবন চালাতেন। তাঁদের তৈরি করা পোশাকের ব্যবসার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন আরও কয়েক লক্ষ মানুষ। পুলিশের এই ‘বুলডোজার নীতি’ ফুটপাথ সাফ করতে কতটা সফল হয় এবং এই বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক মানুষের বিকল্প রুটি-রুজির কী হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



