বিক্ষোভে ভাঙচুর? এবার সুদ-সহ টাকা আদায় করবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করতে নতুন আইন আনতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এর সরকার। প্রস্তাবিত এই আইনে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট হলে অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট সময়ে টাকা না দিলে তার উপর সুদ চাপবে এবং প্রয়োজনে সেই টাকা সরকারি খাজনার মতো আদায়ও করা যাবে। এই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যাক্টে বড় সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ে নতুন আইন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরকার
বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। এই বিলে একটি স্বাধীন ক্লেমস কমিশন গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। কোনও ঘটনায় কত টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং কারা তার জন্য দায়ী, তা নির্ধারণ করবে এই কমিশন।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, নাশকতা, বেআইনি জমায়েত বা হিংসাত্মক বিক্ষোভে সরকারি কিংবা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে। রাস্তা, সেতু, সরকারি অফিস, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, বাস-ট্রাম থেকে শুরু করে বাড়ি, দোকান, কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিও এই আইনের আওতায় আসবে।
শুধু যারা সরাসরি ভাঙচুর করেছে তাদেরই নয়, যারা এই ধরনের ঘটনার পরিকল্পনা করেছে, উসকানি দিয়েছে, অর্থের জোগান দিয়েছে, পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বা অভিযুক্তদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ ধার্য করা যেতে পারে।
সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট দফতরকে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট, এফআইআর এবং তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে আবেদন করা হবে। অন্যদিকে কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীর সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনিও সরাসরি কমিশনের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন।
কমিশনের হাতে দেওয়ানি আদালতের মতো কিছু ক্ষমতা থাকবে। তারা সাক্ষী ডাকতে পারবে, নথি তলব করতে পারবে, সরকারি রেকর্ড খতিয়ে দেখতে পারবে এবং প্রয়োজনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করতে পারবে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঠিক করার সময় সম্পত্তির বাজারমূল্য, ক্ষতির পরিমাণ, মেরামতের খরচ, ছবি, ভিডিও, পুলিশ রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণও ধার্য করা যাবে। তবে সেই অঙ্ক মূল ক্ষতির দ্বিগুণের বেশি হবে না। বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সুদের বিধান। কমিশন চাইলে ক্ষতিপূরণের টাকার উপর সরল সুদ ধার্য করতে পারবে। ফলে টাকা দিতে যত দেরি হবে, পরিশোধের অঙ্কও তত বাড়বে।
এছাড়া কেউ যদি কমিশনের নির্দেশ মেনে ক্ষতিপূরণ না দেন, তাহলে সেই টাকা বকেয়া ভূমি রাজস্ব বা সরকারি খাজনার মতো আদায় করা যাবে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য প্রশাসনের হাতে বিশেষ আইনি ক্ষমতা থাকবে। বিলে আরও বলা হয়েছে, একই ঘটনার জন্য ফৌজদারি মামলা চললেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলবে। ফলে মামলা এবং ক্ষতিপূরণ—দুই প্রক্রিয়াই একসঙ্গে এগোতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় নতুন মোড়, আজ কোন জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা?
সরকারের (Suvendu Adhikari) দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দাঙ্গা এবং হিংসাত্মক ঘটনার ফলে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি হয়। নতুন আইন কার্যকর হলে সেই ক্ষতির আর্থিক দায় সরাসরি দোষীদের উপর চাপানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।




