বোলপুরে তৃণমূলে একের পর এক ধাক্কা! চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, কাউন্সিলরের ইস্তফার পর গ্রেফতার কাউন্সিলর চন্দন মণ্ডল

সবদিক নিউজ: সৌতিক চক্রবর্তী, বোলপুর: বোলপুরের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার মধ্যেই আরও এক বড় ঘটনা সামনে এল। বোলপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর চন্দন মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। শনিবার তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরেই চন্দন মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ছিল থানায়। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতেই শনিবার সকালে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং পরে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। যদিও অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চন্দন মণ্ডলের গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যে ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, সেই তিনিই এখন পুলিশের হেফাজতে—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও আলোচনার শেষ নেই।
তবে এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কারণ গত দু’দিনে বোলপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একের পর এক নাটকীয় মোড় দেখা গিয়েছে।
শুক্রবার আচমকাই বোলপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার দায়িত্বে থাকা পর্ণা ঘোষের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর ঠিক একদিন পর, শনিবার বোলপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিমলাশীষ ভট্টাচার্যও তাঁর কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরপর দুই জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ এবং তার মধ্যেই আর এক কাউন্সিলরের গ্রেফতারি—এই তিনটি ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বোলপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই দাবি করতে শুরু করেছে যে বোলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনাগুলিকে আলাদা আলাদা প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিষয় বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বোলপুরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, অন্যদিকে কাউন্সিলরের ইস্তফা এবং তারই মধ্যে আর এক কাউন্সিলরের গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে বোলপুরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।
এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই ঘটনাগুলির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয় এবং বোলপুর পৌরসভার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। আপাতত শহর জুড়ে একটাই আলোচনা—পরপর এই ঘটনাগুলির পর বোলপুরের রাজনীতিতে আর কী চমক অপেক্ষা করছে?



