ভূস্বর্গে নতুন করে কার্যকলাপ শুরু জামাতের! খবর পেয়েই কাশ্মীরে অভিযান NIA-র

সবদিক নিউজ:জঙ্গিবাদে মদত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে উসকানির অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাত-এ-ইসলামি বা জেইআই-কে ঘিরে ফের বড়সড় অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। সোমবার ভোর থেকেই শ্রীনগর-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) একাধিক এলাকায় তল্লাশি শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনটি নতুন করে উপত্যকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই এদিনের এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। এনআইএ-র পাশাপাশি অভিযানে অংশ নেয় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের বিশেষ দল। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, উপত্যকায় জঙ্গিবাদে অর্থ জোগান, নতুন সদস্য নিয়োগ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক সংগঠনকে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
জামাতের কার্যকলাপের খবর পেয়ে কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) শুরু NIA-র তল্লাশি অভিযান
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শ্রীনগরের লাললাজার এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। বিশেষ নজরে ছিল শোপিয়ান জেলা, যেখানে কয়েকটি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠেছিল। এনআইএ-র আধিকারিকরা মূলত দারুল উলুম এবং সিরাজুল উলুম নামে দুই ইসলামি প্রতিষ্ঠানের ভবনে তল্লাশি চালান। সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে এই সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে সেখানে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং মৌলবাদী প্রচারের প্রমাণ মিলেছে। এদিনের অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি জেতেন বিশ্বকাপ! এবার রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী গ্রহণ করলেন হরমনপ্রীত কৌর
শোপিয়ানের মোলু চিত্রগ্রাম এলাকাতেও অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেখানে জামাত-এ-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত একটি ভবন এবং শাহজাদা আওরঙ্গজেব নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। সকাল থেকেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, আচমকা এত বড় অভিযানে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও অভিযানের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গোয়েন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং যুবকদের মধ্যে উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি। সেই কারণেই এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমবার জামাত-এ-ইসলামিকে বেআইনি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। অভিযোগ ছিল, সংগঠনটি উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদকে মদত দিচ্ছে এবং জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে পরোক্ষে সহায়তা করছে। সেই সময় পাঁচ বছরের জন্য সংগঠনটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে ফের আরও পাঁচ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও সংগঠনটি ছদ্মবেশে নিজেদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল এবং নতুন কৌশলে উপত্যকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টেও সেই আশঙ্কার উল্লেখ ছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ কমলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি এখন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে তরুণদের টার্গেট করে অনলাইনে এবং স্থানীয় স্তরে প্রচার চালানোর অভিযোগও উঠছে। সেই কারণে এনআইএ-র এই অভিযানকে শুধুমাত্র তল্লাশি নয়, বরং উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মতে, আর্থিক লেনদেনের উৎস, বিদেশি যোগাযোগ এবং জঙ্গি নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে এই তদন্ত থেকে।

নিষিদ্ধ হবে বহুগামিতা, পারিবারিক সম্পত্তিতে সমান অধিকার পাবেন মহিলারা! আসামে চালু হচ্ছে UCC
যদিও সোমবারের এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে, তবে তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছেন। আগামী দিনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ বা নতুন অভিযান হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। উপত্যকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কেন্দ্র যে কোনও ধরনের জঙ্গিবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে, এদিনের অভিযান সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (Jammu and Kashmir)।




