রামমন্দিরে দানের টাকা তছরুপের অভিযোগ গোপন তদন্তে উদ্ধার প্রায় দেড় কোটি টাকা

সবদিক নিউজ: রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের প্রকাশ্য অভিযোগের পর এবার গোপন তদন্তে নেমে প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ঘটনায় মন্দিরের একাধিক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আরও কয়েকজনকে নজরে রাখা হয়েছে। সূত্রের দাবি, অভিযোগ সামনে আসার পর সম্প্রতি দিল্লি থেকে অযোধ্যায় এসে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)-এর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রামমন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র এবং সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। বিভিন্ন আর্থিক নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখার পর তাঁরা দিল্লি ফিরে যান। এরপরই মন্দির ট্রাস্টের তরফে গোপনে তদন্ত শুরু হয়। এই তদন্তে পুলিশও সহযোগিতা করছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মন্দিরের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সন্দেহভাজন কয়েকজন কর্মী ওই অর্থ ব্যবহার করে জমি, বাড়ি এবং বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। কয়েকজন কর্মীর সম্পত্তি ও আর্থিক অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা অযোধ্যার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন ব্যাঙ্কে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অ্যাকাউন্টের লেনদেন পরীক্ষা করছেন। সূত্রের খবর, মন্দিরে আগত তীর্থযাত্রীদের হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মীর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এসেছে। তাঁদের মাধ্যমে মন্দিরের অর্থ বাইরে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন না তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় রামমন্দিরের দানের অর্থ গায়েব হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রামভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে তিনি এই ঘটনায় আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের দাবি জানান এবং বিষয়টিকে রামভক্তদের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেন। অখিলেশের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেই আবহেই মন্দির ট্রাস্টের গোপন তদন্তে অর্থ উদ্ধারের খবর সামনে আসায় নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা তছরুপ হয়েছে, তা জানতে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।



