লক্ষ লক্ষ টাকা পণের পরেও শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন! বিয়ের এক বছরের মধ্যেই মৃত্যু জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের

সবদিক নিউজ: দেশজুড়ে তিশা শর্মার মৃত্যুকে ঘিরে পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগ যখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে, ঠিক সেই সময়েই উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের (Social Media Influencer) রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাদাতগঞ্জ এলাকার এই ঘটনায় মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তরুণী মানসীকে। মাত্র এক বছরের বৈবাহিক জীবনের মধ্যেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মানসীর স্বামী সাগর রাজপুত নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ এবং তাঁর অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় আট লক্ষ বলে জানা গিয়েছে। ফলে ঘটনাটি সাধারণ মৃত্যুর তদন্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে জনমনে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিয়ের এক বছরের মধ্যেই মৃত্যু জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের (Social Media Influencer):
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কানপুরের বাসিন্দা মানসীর সঙ্গে সাগর রাজপুতের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৭ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রীও দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। তবে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা এই পণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। মানসীর পরিবারের দাবি, শ্বশুর, পিসিশাশুড়ি, ননদ, ননদাই এবং স্বামী সাগর, সকলেই তাঁকে কম পণ আনার জন্য নিয়মিত কটূক্তি করতেন। শুধু তাই নয়, একটি গাড়ির দাবিও করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চাপ শারীরিক নির্যাতনের রূপ নেয় এবং মানসীকে মারধরও করা হত।
সই-কাণ্ডে CID-র তলব, হাজিরা দিলেন না অভিষেক! চিঠি দিয়ে কী কারণ জানালেন?
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি মানসীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তবে আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে নারাজ তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর জন্য মৃতদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মানসী দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারের শিকার হলেও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অত্যাচারই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। মানসীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সাদাতগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক সন্তোষ আর্য জানিয়েছেন, এই মামলায় মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য, পরিবারের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের ভূমিকা নির্ধারণে প্রযুক্তিগত ও ফরেন্সিক তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বাগদানের আসর ছেড়ে টিভি শো-এর অডিশনে! তারপরেই বাজিমাত, কয়েক কোটির ব্যবসা সামলাচ্ছেন অনল
ইতিমধ্যেই সাগর রাজপুতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। এদিকে মানসীর মৃত্যুর ঘটনা আবারও পণপ্রথা ও বিবাহ-পরবর্তী নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যাকে সামনে এনে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এখন সকলের নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের দিকে, কারণ সেই রিপোর্টই নির্ধারণ করতে পারে এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড (Social Media Influencer)।




