0%

শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করলেন মৃত সিপিএম দম্পতির ছেলে, আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জালে ১০ তৃণমূল কর্মী!

সবদিক নিউজ: ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা আজও ভোলেনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রাম। যেখানে স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এক সিপিএম সমর্থক দম্পতিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের হার্মাদদের বিরুদ্ধে। তৃণমূল জমানায় সেই হাড়হিম করা ঘটনার তদন্তকে সুকৌশলে হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু ছাব্বিশের বাংলায় পালাবদলের পর ছবিটা বদলে গেল রাতারাতি। মঙ্গলবার বিধানসভায় গিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন ওই মৃত দম্পতির একমাত্র অসহায় ছেলে দীপঙ্কর দাস। আর সেই মেগা সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নজিরবিহীন অ্যাকশনে নামল সুন্দরবন জেলা পুলিশ। রাতভর চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল আট বছর আগে? ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক মুখে বুধাখালি গ্রামের বাসিন্দা তথা সক্রিয় সিপিএম সমর্থক দেব দাস ও ঊষা দাসের ওপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, বাড়ির দরজা বাইরে থেকে লক করে দিয়ে দম্পতিকে ঘরের ভেতরেই জ্যান্ত পুড়িয়ে মারে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা। সে সময় কলেজ পড়ুয়া ছেলে দীপঙ্কর দাস বাড়ি ছিলেন না। ফিরে এসে বাবা-মায়ের ঝলসে যাওয়া কঙ্কালসার দেহ দেখতে পান তিনি। এই ঘটনায় কাকদ্বীপ থানায় ১২ জন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে নামসহ এফআইআর (FIR) করা হলেও তৎকালীন পুলিশ আসল অপরাধীদের আড়াল করে কয়েক জন নিরীহকে ধরে কেস সাজিয়েছিল বলে অভিযোগ দীপঙ্করের।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, সুন্দরবনের এসপি-র তৎপরতা

নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুরনো রাজনৈতিক হিংসার ফাইলগুলি পুনরায় খোলার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিধানসভায় দীপঙ্কর দাসের মুখে এই নির্মম অত্যাচারের কাহিনী শোনার পরেই আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অবিলম্বে পুলিশকে অপরাধীদের খোঁজার নির্দেশ দেন।

বুধবার সকালেই দীপঙ্করের বাড়িতে পুলিশ প্রধান

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই মঙ্গলবার মাঝরাত থেকে কাকদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। একে একে ১০ জন অভিযুক্তকে পাকড়াও করে থানায় এনে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। ঘটনার গতিপ্রকৃতি এত দ্রুত বদলায় যে, আজ বুধবার সকালেই সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার (SP) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর স্বয়ং দীপঙ্করের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। ৮ বছর ধরে বুকে পাথর বেঁধে রাখা দীপঙ্কর অবশেষে সুবিচারের আশায় বুক বাঁধছেন। অন্যদিকে, নতুন সরকারের এই ঝোড়ো অ্যাকশনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের অন্দরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker