0%

সাধারণ মহিলা ভেবে যৌ*নাঙ্গ প্রদর্শন! কলার ধরে হিড়হিড় করে ‘রোমিও’কে থানায় নিয়ে গেলেন ‘লেডি সিংহম’!

সবদিক নিউজ: রাস্তায় সালোয়ার-কামিজ আর মাথায় হেলমেট পরে স্কুটি চড়ে যাচ্ছিলেন এক সাধারণ মহিলা। তাঁকে একা পেয়েই রাস্তায় দাঁড়িয়ে অ*শ্লীল অঙ্গভঙ্গি, যৌ*নাঙ্গ প্রদর্শন এবং কুৎসিত মন্তব্য ছুঁড়ে দিল এক মদ্যপ বাউন্ডুলে যুবক! কিন্তু সে ভাবতেও পারেনি, যার ওপর সে চড়াও হয়েছে, তিনি আসলে ছদ্মবেশী এক দাপুটে পুলিশকর্মী! নিমেষের মধ্যে রুদ্ররূপ ধারণ করে ওই যুবকের কলার চেপে ধরলেন তিনি। মাঝরাস্তা দিয়ে জনসমক্ষে হিড়হিড় করে টেনে সোজা নিয়ে গেলেন থানায়। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থানা এলাকার এই রোমহর্ষক ঘটনায় এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য। খড়দহের এই ‘লেডি সিংহম’-এর সাহসকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন আপামর জনতা।

সাধারণ পোশাকে যাচ্ছিলেন খড়দহ থানার পুলিশকর্মী, ‘ভুল’ শিকারীকে বাগে আনল আইন!

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিগৃহীতা ওই মহিলা খড়দহ থানাতেই কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি পুলিশের উর্দি পরে ছিলেন না, বরং সাধারণ পোশাকে স্কুটি নিয়ে যাচ্ছিলেন। আর পুলিশের পোশাক না থাকার কারণেই ওই যুবক সম্ভবত বুঝতে পারেনি যে সে এক সিংহীর ডেরায় হাত দিতে চলেছে। খড়দহের জিটি রোডের ওপর ওই মহিলা পুলিশকর্মীকে একা দেখে যুবকটি অত্যন্ত নোংরা মানসিকতার পরিচয় দেয়।

আক্রান্ত মহিলা পুলিশকর্মী নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমাকে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখে ও হঠাৎ করে যৌ*নাঙ্গ প্রদর্শন করে এবং অত্যন্ত কুরুচিকর কুমন্তব্য ছুঁড়ে দেয়।” এই চরম অপমানের মুখে দমে না গিয়ে, তৎক্ষণাৎ স্কুটি থামিয়ে বাঘিনীর মতো যুবকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। জনসমক্ষেই তার কলার ধরে টানতে টানতে খড়দহ থানার লক-আপ পর্যন্ত নিয়ে যান। এই ঘটনা চাক্ষুষ করে থানায় উপস্থিত অন্যান্য মহিলারাও ওই কুলাঙ্গার যুবকের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নারী সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’, রাজপথে মুণ্ডপাত হবে ‘রোমিও’দের!

উল্লেখ্য, রাজ্যে নারী হেনস্তা রুখতে শুরু থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। রাস্তায় বের হয়ে কোনও মহিলা যাতে উত্যক্ত বা হেনস্থার শিকার না হন, তার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বার্তা দিয়েছিলেন, “নারীসুরক্ষা ও কন্যাদের নিরাপত্তা প্রদান সরকারের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভয়া থেকে অভয়া, যে তিক্ত অভিজ্ঞতা আমরা অতীতে সঞ্চয় করেছি, এবার তার বদল ঘটিয়ে মা-বোনদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা ও সুবিচার দেব।”

সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের ৫০০টি থানায় চালু করা হয়েছে বিশেষ মহিলা হেল্পডেস্ক। মোটরবাইকে চড়ে পথেঘাটে ইভটিজারদের শায়েস্তা করতে রাস্তায় নামানো হয়েছে স্পেশাল ‘দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড’। এছাড়াও বসিরহাট, বনগাঁ, বারাসত প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে ১০টি অত্যাধুনিক বাইকের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, যে কোনও অপরাধমূলক ঘটনার লাইভ সম্প্রচারের জন্য ২০টি রিয়েল টাইম অডিও-ভিসুয়াল ট্রান্সমিশনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আর সেই হাইটেক সুরক্ষার মাঝেই খড়দহের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, মহিলারা ঘুরে দাঁড়ালে অপরাধীদের পালানোর কোনও পথ থাকবে না।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker