0%

বসন্তের শুরুতেই ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর! এই ৫টি ভুল করলেই বিপদ

শীত বিদায় নিয়েছে, কিন্তু গরম এখনও সেভাবে পড়েনি। এই যে ‘নাতিশীতোষ্ণ’ আবহাওয়া, এটাই হলো ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির আদর্শ সময়। সকালের দিকে হালকা ঠান্ডা আর দুপুরে রোদের তেজ—এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে পারছে না। ফলে ঘরে ঘরে কারও জ্বর, কারও টানা সর্দি, আবার কেউ বা খুসখুসে কাশিতে জীবন জেরবার। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়ে আমাদের করা কিছু ছোট ছোট ভুলই শরীরকে দুর্বল করে দেয় আর তাই সহজে ভাইরাস চেপে বসে। আপনিও কি এই ভুলগুলো করছেন?

হঠাৎ ফ্যান বা এসি চালানো

দুপুরে রোদ দেখে অনেকেই এখন ফ্যান ফুল স্পিডে চালিয়ে দিচ্ছেন বা এসির তাপমাত্রা একদম কমিয়ে দিচ্ছেন। বিজ্ঞান বলছে, শরীরের তাপমাত্রার এই হঠাৎ পরিবর্তন বা ‘Thermal Shock’ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কমিয়ে দেয়। এর ফলে খুব দ্রুত ভাইরাস অ্যাটাক করে।

ঠান্ডা জলের নেশা

গরম না পড়লেও রোদে একটু হাঁটলেই অনেকে ফ্রিজের ঠান্ডা জল খাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঋতু পরিবর্তনের সময় গলার টিস্যুগুলো খুব সংবেদনশীল থাকে। ঠান্ডা জল খেলে শ্বাসনালীর সুরক্ষা কবচ বা
‘মিউকোসিলিয়ারি ক্লিয়ারেন্স’ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে খুব সহজে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধে।

বাইরের খাবার ও রাস্তার জল

এই সময়ে জলবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ে। রাস্তার কাটা ফল ঢাকা না দিয়ে রাখা জল থেকে টাইফয়েড বা জন্ডিসের ঝুঁকি বাড়ে। ল্যানসেট-এর বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঋতু পরিবর্তনের সময় হজম ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়, তাই বাইরের তেল-ঝাল খাবার এই সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো।

ভুল পোশাক নির্বাচন

সকালে ঠান্ডা লাগছে বলে চাদর বা সোয়েটার পরছেন, কিন্তু দুপুরে ঘেমে যাচ্ছেন। এই ঘাম শরীরে বসে গেলেই বিপত্তি। ঘাম বসে বুকে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে সুতির আরামদায়ক পোশাক পরুন এবং সঙ্গে একটি পাতলা চাদর রাখুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও জল পান না করা

ইমিউনিটি ধরে রাখতে দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে টক্সিন বেরিয়ে যায়, ফলে ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে না।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker