বিধানসভার সিঁড়িতে প্রণাম, তারপর শপথ! ভবানীপুরের বিধায়ক পদ বেছে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

সবদিক নিউজ: গত শনিবার ব্রিগেডে রাজকীয় শপথগ্রহণের পর আজ বিধায়ক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন তিনি। বিধানসভার মূল প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে নেমেই নিজের জুতো খুলে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভঙ্গিতেই বিধানসভার সিঁড়িতে হাঁটু গেড়ে বসে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন তিনি।
গার্ড অফ অনার ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
সোমবার নবান্নে গার্ড অফ অনার পাওয়ার পর আজ বিধানসভা চত্বরেও তাঁকে স্যালুট জানায় পুলিশ বাহিনী। এরপর ডঃ বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এদিন গোটা বিধানসভা চত্বর সাজানো হয়েছিল লাল কার্পেটে। শুভেন্দু আসতেই বিজেপি বিধায়করা তাঁকে জয়ধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানান। বিধানসভার ভেতরে নিজের জন্য বরাদ্দ ঘরে এদিন বিশেষ পুজোর আয়োজন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজো দেওয়ার পরই তিনি মূল সভাকক্ষে প্রবেশ করেন।
ভবানীপুরেই আস্থা, নন্দীগ্রাম ছাড়ার ইঙ্গিত
এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুভেন্দু অধিকারী এদিন ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, ছ’মাসের মধ্যে একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হবে। আজ ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটা কার্যত নিশ্চিত যে, তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিচ্ছেন।
নন্দীগ্রামে কি তবে ফের ভোট?
মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রাম ছাড়লে সেখানে ফের উপনির্বাচন হওয়া সময়ের অপেক্ষা। যদিও শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ আজীবন থাকবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার মসনদ সামলানোর সুবিধার্থেই তিনি ভবানীপুরকে বেছে নিলেন।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলিয়ে মোট ২৯০ জন বিধায়ক শপথ নেবেন। এদিন শুভেন্দুর পর নিশীথ অধিকারী, অশোক কীর্তনিয়া-সহ উত্তরবঙ্গের জয়ী প্রার্থীরাও শপথবাক্য পাঠ করেন। বিধানসভার অন্দরমহলে এখন শুধুই পরিবর্তনের হাওয়া।



