রাজ্যে গতি পাচ্ছে ৫ মেট্রো প্রকল্প, দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজ শুরু কবি সুভাষে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন কবি সুভাষে অবশেষে শুরু হতে চলেছে ভাঙা ও নতুন করে তৈরির কাজ। প্ল্যাটফর্মের স্তম্ভে ফাটল ধরা পড়ার পর থেকেই বন্ধ ছিল স্টেশনটি। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ভোগান্তির পর এবার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে আরও শক্তিশালী কাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে সেই বহু প্রতীক্ষিত কাজ (Kolkata Metro)।
কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন পুনর্নির্মাণ (Kolkata Metro)
উত্তর-দক্ষিণ করিডর বা ব্লু লাইনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন কবি সুভাষে (Kabi Subhash Metro) আগামী ১৭ মে থেকে ভাঙার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা মেট্রো (Kolkata Metro)। মূলত দক্ষিণেশ্বরমুখী ট্রেনের জন্য থাকা প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে ফেলা হবে। যাত্রী নিরাপত্তার কোনও ঝুঁকি যাতে না থাকে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই কাজ শুরু হওয়ার আগে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে নতুন একটি ‘রেক রিভার্সাল পয়েন্ট’ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ট্রেন ঘোরানোর ব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে মনে করছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শহিদ ক্ষুদিরামই ব্লু লাইনের অস্থায়ী টার্মিনাল স্টেশন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ট্রেন চলাচলে দেরি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ জুলাই নিউ গড়িয়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের স্তম্ভে ফাটল ধরা পড়ে। এরপর থেকেই সেখানে বাণিজ্যিক পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। তারপর থেকে যাত্রীদের একাংশকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কারণ এই স্টেশনটি শুধু ব্লু লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশই নয়, অরেঞ্জ লাইনের সঙ্গেও সংযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি শহরতলির রেল পরিষেবার সঙ্গেও যুক্ত ছিল এই স্টেশন।
মেট্রোর (Kolkata Metro) জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানিয়েছেন, প্রথমে ভাঙার কাজ চলবে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ। তারপর নতুন করে স্টেশন তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হতে আরও ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগতে পারে। নতুন কাঠামো আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী করা হবে। অতিরিক্ত পাইল ও স্তম্ভ বসিয়ে গোটা অংশকে নিরাপদ করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মেট্রো (Kolkata Metro) সূত্রে খবর, বহুদিন ধরেই স্টেশনে কাঠামোগত দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। ২০১৪ সাল থেকেই সমস্যা ধরা পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে ভারী বৃষ্টির কারণে সেই ফাটল আরও বাড়ে। তবে শীতকাল, পরীক্ষার সময় এবং নির্বাচনের কারণে এতদিন কাজ শুরু করা যায়নি। গরমের ছুটিতে যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় এখনই ভাঙার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) একাধিক প্রকল্পও নতুন করে গতি পেতে চলেছে। পার্পল লাইনের এসপ্ল্যানেড স্টেশনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বি সি রায় মার্কেটের জটের কারণে। ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন নিয়ে সমস্যার জেরেই কাজ থমকে আছে। তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই জট কাটার আশাও দেখছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) বিভিন্ন প্রকল্পে বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ লাইনের জন্য ৭০৫.৫০ কোটি টাকা, পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি এবং গ্রিন লাইনের জন্য ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বৌবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির পুনর্নির্মাণেও এই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াপাড়া থেকে বারাসত পর্যন্ত ইয়েলো লাইনের সম্প্রসারণের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রেল বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সেই প্রকল্প।

আরও পড়ুনঃ পেট্রোল-ডিজ়েলের মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ধাক্কা! বাড়তে পারে বাজার খরচ ও যাতায়াত ভাড়া
পাশাপাশি ব্লু লাইনের পুরনো পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজও শুরু হতে চলেছে। দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ (Kabi Subhash Metro) পর্যন্ত করিডরে আধুনিক কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালুর অনুমোদনও মিলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন পরিষেবা আরও দ্রুত এবং নিরাপদ হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।



