মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, কবে-কোথায় বসবেন শুভেন্দু? ‘জনতার দরবার’-এর নিয়ম জেনে নিন

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন ‘জনতার দরবার’। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের সমস্যা, অভিযোগ কিংবা বঞ্চনার কথা জানানোর সুযোগ এবার পেতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ জুন থেকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সোমবার থেকে সেই উদ্যোগ কার্যকর করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজই ‘জনতা দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)
সোমবার বিধাননগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে বসে প্রথম ‘জনতার দরবার’।প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া মিলেছে এই কর্মসূচিতে।
সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন লকেট চ্যাটার্জি এবং শশী অগ্নিহোত্রী। সকাল থেকেই বহু মানুষ সেখানে পৌঁছে যান নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানাতে। সূত্রের খবর, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন।
তবে শুধুমাত্র অভিযোগ শোনা নয়, সাক্ষাৎপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও আলোচনার বিষয় গোপন রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু। জানা গিয়েছে, উপস্থিতদের মধ্যে বড় অংশ ছিলেন চাকরিপ্রার্থী। নিয়োগ দুর্নীতির জেরে চাকরি হারানো কিংবা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়া বহু মানুষ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, এখন থেকে প্রতি সোমবার এই ‘জনতার দরবার’ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ভবিষ্যতে ভেন্যু পরিবর্তন হতে পারে। সকাল ১০টা থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। তবে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করা হয়েছে, ফোনে বা অনলাইনে নয়, সরাসরি সামনাসামনি বসেই মানুষের কথা শুনবেন শুভেন্দু অধিকারী। অর্থাৎ, কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই মানুষ নিজের সমস্যার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পারবেন।
জানা গিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন প্রশাসনের দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিকও। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই হবে এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। অভিযোগ পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন :প্রধানমন্ত্রীর মুকুটে নতুন পালক! সুইডেনের সর্বোচ্চ সম্মান পেয়ে আবেগঘন বার্তা মোদীর
উল্লেখ্য, মমতা ব্যানার্জির সরকারের আমলে ‘দিদি কে বলো’ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। সেখানে মানুষ নিজেদের সমস্যা জানাতে পারলেও বিরোধীদের দাবি ছিল, বহু ক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান অধরাই থেকে যেত।তবে বিজেপির দাবি, নতুন ‘জনতার দরবার’-এর মাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসবে এবং সমাধানের পথও সহজ হবে।



