পাকিস্তান-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ? দিল্লি সফরে স্পষ্ট বার্তা রুবিওর

সবদিক নিউজ: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এই আবহে পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতা কি ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, কিংবা ভারতের জন্য নতুন কোনও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে—এমনই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলো মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওকে। চার দিনের ভারত সফরে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে ভারতের আলাদা করে আশঙ্কার কিছু নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই শীর্ষ কূটনীতিকের মতে, নয়াদিল্লির আপত্তির জায়গাটি সম্পূর্ণ অন্য।
সোমবার দিল্লি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন বিদেশসচিব স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সক্রিয় থাকা একাধিক সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী যেভাবে ভারতকে প্রতিনিয়ত নিশানা করে চলেছে, তা নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে ইরানের পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আমেরিকার কাছে এখনও কোনও ধরনের আপত্তির কথা জানানো হয়নি বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। রুবিও মনে করেন, এই নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে ভারতের অভিযোগ করার মতো কোনও কারণ নেই, কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা ও দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার।
ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে ইদানীংকালে পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ঘনিষ্ঠতা বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার এই নতুন সমীকরণ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কিছুটা কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন রুবিও। তিনি জানান, আমেরিকা প্রতিটি দেশের সঙ্গেই নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান থেকে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং ভারতের ক্ষেত্রেও তার কোনও ব্যতিক্রম ঘটছে না। যে কোনও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের মতোই ওয়াশিংটন তার কূটনীতি পরিচালনা করে এবং অন্য কোনও দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের গভীরতা ভারতের সঙ্গে থাকা সুদৃঢ় কৌশলগত বন্ধুত্বে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না।
চলতি সফরে ভারতকে আমেরিকার অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক সহযোগী বন্ধু হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কো রুবিও। রবিবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং আগামী দিনে তা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের শুরুতেই কলকাতায় এসেছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব। ইতিমধ্যে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ফোন করে মোদীর সঙ্গে কথা বলেন। সফরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার তাঁর আগ্রায় তাজমহল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখান থেকে তিনি রাজস্থানের জয়পুরে যাবেন। জয়পুর সফর শেষ করে পুনরায় দিল্লিতে ফিরে এসে মঙ্গলবার কোয়াড গোষ্ঠীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন রুবিও। এই বৈঠক শেষ করেই তাঁর স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।



