0%

কাকলি-শতাব্দীর নেতৃত্বে দিল্লির বুকে তৃণমূলের মহাপতন! ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-তে যাচ্ছেন ২০ সাংসদ

সবদিক নিউজ: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ক্ষমতাচ্যুতির পর এবার ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতেও চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়ল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার বিধানসভায় পরিষদীয় দল ভেঙে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের পর, এবার দেশের রাজধানী দিল্লিতেও তৃণমূলের সংসদীয় দুর্গে এক নজিরবিহীন ফাটল দেখা দিল। লোকসভার অন্তত ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদ এবার একযোগে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ (NDA)-তে যোগ দিতে চলেছেন। শুধু মুখের কথা নয়, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে (Om Birla) ইতিমধ্যেই এই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। দিল্লির রাজনৈতিক মহলের বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের এই বিশাল ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের দুই হেভিওয়েট সাংসদ, ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়।

দলত্যাগ বিরোধী আইনকে বুড়ো আঙুল! রেডি নিখুঁত অংক

সাধারণত দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) কড়া ফাঁস এড়াতে এবং সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখতে যে কোনও দলের মোট নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অন্তত দুই তৃতীয়াংশ (2/3rd) সদস্যের সমর্থন বা সই প্রয়োজন হয়। লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ সংখ্যার দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিদ্রোহীরা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আইনি অংক মেনেই এই চাল চেলেছেন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস মোট ২৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল। তবে এর মাঝেই বসিরহাটের প্রবীণ সাংসদ হাজি নুরুলের প্রয়াণের পর ওই লোকসভা আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। যার ফলে, এই মুহূর্তে লোকসভায় তৃণমূলের মোট বর্তমান সাংসদ সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২৮-এ। আর এই ২৮ জন সাংসদের দুই তৃতীয়াংশ হিসাব করলে ম্যাজিক ফিগার দাঁড়ায় ১৯ জন। স্পিকার ওম বিড়লার কাছে যে ২০ জন সাংসদ এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন, তা এই আইনি সুরক্ষাকবচের (ম্যাজিক ফিগার ১৯) চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে। অর্থাৎ, আইনত তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ করার কোনও এক্তিয়ার থাকছে না শীর্ষ নেতৃত্বের।

দিল্লিতে থমকে গেল ঘাসফুলের দাপট, উল্লাস এনডিএ শিবিরে

বাংলার মাটিতে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই দিল্লির দরবারে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার যে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়েছিল, সোমবারের এই ঘটনা তারই চূড়ান্ত রূপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের মতো মমতার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সৈনিকরা যেভাবে বিদ্রোহের পতাকা তুলে স্পিকারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন, তা বাংলার সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। একদিকে রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা, আর অন্যদিকে দিল্লির সংসদেও সিংহভাগ সাংসদ হাতছাড়া হওয়া, সব মিলিয়ে ঘাসফুল শিবিরের অস্তিত্ব এখন গভীর সংকটের মুখে। রাজধানীর অলিন্দে আজ এই দলবদলের সিলমোহর পড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker