দিদির প্রতি ভালোবাসা অটুট, তবু নতুন সরকারের পাশে! নীরবতা ভেঙে কী বললেন শতাব্দী রায়?

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ১৭ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। কিন্তু সম্প্রতি তিনি লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নতুন ব্লকে যোগ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেন তিনি দলের থেকে দূরে সরে গেলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন কেমন, আর নতুন বিজেপি সরকার সম্পর্কে তাঁর মত কী, সবটাই খোলাখুলি জানালেন শতাব্দী রায়।
কী বললেন শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)?
লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একসঙ্গে আসা নিয়ে শতাব্দী (Satabdi Roy) বলেন, তিনি কাউকে ডাকেননি। বরং তাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও সাংসদ এই ব্লকে যোগ দিতে পারেন বলেও শুনেছেন। তাঁর কথায়, এই ব্লক তৈরি হয়েছে প্রতিবাদের বার্তা দিতে। দলের কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁরা একমত নন, সেটাই বোঝাতে চান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শতাব্দী (Satabdi Roy) বলেন, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা এখনও আগের মতোই রয়েছে। তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে তিনি আর মমতার সঙ্গে নেই। এতদিন একসঙ্গে রাজনীতি করার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলতে গেলেও এখনও আবেগ কাজ করে বলে জানান তিনি। এরপর শতাব্দী মনে করিয়ে দেন, ২০০৯ সালে তিনি যখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, তখন দল ক্ষমতায় ছিল না। তাই শুধু সাফল্যের সময় নয়, কঠিন সময়েও তিনি দলের পাশে ছিলেন। তাঁর মতে, দলের উত্থান-পতনের পথে তাঁরও কিছু অবদান রয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও সরাসরি কথা হয়নি বলেও জানান তিনি (Satabdi Roy)। শতাব্দীর কথায়, এখানে আসার আগে যদি মমতা তাঁকে একবার ফোন করতেন, তাহলে হয়তো কিছু অভিমান কমত। দু’জনের মধ্যে কথা হওয়ার সুযোগও থাকত।
দলের সঙ্গে কেন বাড়ল দূরত্ব?
দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শতাব্দী (Satabdi Roy) বলেন, ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে কারও মতামত গুরুত্ব পেত না। তিনি বলেন, পরামর্শ না শুনেও যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু ভুলের পর ভুল হলে এবং সেই ভুলকেই সমর্থন করা হলে সেখানে থাকা কঠিন হয়ে যায়।
তাঁর অভিযোগ, দলের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানানো হলেও সেগুলির সমাধানে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হত না। তাই যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের গদ্দার বলা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শতাব্দীর মতে, দলের ভিতরের সমস্যাগুলো গুরুত্ব না দিলে অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
বিজেপি সরকারের প্রশংসা
নতুন বিজেপি সরকার সম্পর্কে বলতে গিয়ে শতাব্দী (Satabdi Roy) বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি ভেবেছিলেন অনেক প্রতিশ্রুতিই হয়তো শুধু ভোটের প্রচার। কিন্তু সরকার গঠনের পর দ্রুত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত এবং অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ ইতিমধ্যেই সেই কাজ দেখতে পাচ্ছেন।তাঁর মতে, সরকারের শুরুটা ভালো হয়েছে। এখন তাদের সামনে নিজেদের আরও প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। আগে ডবল ইঞ্জিন সরকার নিয়ে অনেকের যে ধারণা ছিল, বাস্তবে তার উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দুকে নিয়ে কী বললেন?
দিল্লিতে বৈঠকের সময় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান শতাব্দী (Satabdi Roy)। তাঁর দাবি, সাংসদ তহবিলের বাইরে মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকেও উন্নয়নের কাজে সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘গ্রেফতার নয়, তবে…’, অরূপ-মামলায় বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
এদিন শুভেন্দুর প্রশংসা করে শতাব্দী (Satabdi Roy) বলেন, তিনি একজন লড়াকু নেতা এবং রাজনীতির মানুষ। রাজনীতি তাঁর জীবনের বড় অংশ। পাশাপাশি বিজেপির মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার সংস্কৃতিও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই আগামী দিনে ভালো ফল মিলতে পারে বলে আশাবাদী শতাব্দী রায়।




