‘শেষ দিকে কার পাল্লায় পড়লেন বুঝলাম না’, মমতাকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য অনুব্রতের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন দলের প্রবীণ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। দলীয় অন্দরে মতভেদের আবহের মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বীরভূমের নেতা।
কী বললেন অনুব্রত (Anubrata Mondal)?
লোকসভায় কয়েকজন সাংসদ আলাদা ব্লক গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার পর তা নিয়ে তৃণমূলের আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে নেতিবাচকভাবে দেখতে নারাজ অনুব্রত। তাঁর কথায়, “অন্যায় তো করেনি কেউ। খারাপ কাজ তো করেনি কিছু৷ তাঁরা (বিদ্রোহীরা) বিজেপি করেননি। তাঁরা আলাদা একটা ফ্রন্ট তৈরি করেছেন।” অর্থাৎ দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ না দেওয়ায় তাঁদের পদক্ষেপকে তিনি অন্য দৃষ্টিতে দেখছেন।
অনুব্রতের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, তবে কি তিনিও বর্তমান নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন? যদিও সে বিষয়ে সরাসরি কোনও উত্তর দেননি তিনি। বরং দলনেত্রীর প্রতি নিজের আবেগের কথা তুলে ধরে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য প্রচণ্ড খারাপ লাগছে। ভদ্রমহিলাকে দেখলে কষ্ট হচ্ছে। শুধু আমি কেন, যত জন বিধায়ক-সাংসদ বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেও একই কথা বলবেন। তাঁরা বলবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমরা আছি।”
বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ ফলাফলের কারণ হিসেবে তিনি সরাসরি আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই সংস্থা রাজনৈতিক সাফল্যের চেয়ে আর্থিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ফাঁসের অভিযোগও এনেছেন তিনি। অতীতের সংগঠন গড়ে তোলার দিনগুলির কথা স্মরণ করে অনুব্রত বলেন, “৯৮ সালে যখন দল তৈরি হলো, সেই সময়ে অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী। তখন আমরা সাতটা আসন পেলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী হলেন। দলে একটা সুন্দর ভাব এল। তখন আইপ্যাক ছিল না। কেউ ছিল না। কোনও জ্ঞানী-গুণী ছিল না। আমাদের মতো রাখালবাখাল, মুকুল রায়, গৌতম বসু, বালু, পঙ্কজদা, মদন মিত্র— এরাই ছিল। আমরাই ছিলাম তখন দলের প্রধান। আইপ্যাককে আমাদের দরকার হয়নি। ২০০৯ সালে তৃণমূলের প্রতীক নিয়েই শতাব্দী রায়কে জিতিয়েছিলাম। তখনও আইপ্যাক ছিল না। ২০১১ সালে যখন দল ক্ষমতায় আসে, তখনও আইপ্যাক ছিল না। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে সরকারে এসেছিলাম। কংগ্রেসকে চটানোটাও আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু কে কার কথা শোনে!”

আরও পড়ুন : স্মার্ট মিটার নিয়ে নাজেহাল, ১০০ টাকা নাকি ৫০০ টাকা, কত টাকার রিচার্জে কতদিন চলবে জানুন
নির্বাচনের সময় তিনি নিজেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেননি বলে জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন দলীয় দায়িত্ব না পাওয়ার বিষয়টি। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ দিকে কার পাল্লায় পড়লেন, আমি বুঝতে পারলাম না। এ বারে যেমন আমাকে ভোটের দায়িত্ব দেননি। কোর কমিটির মিটিংয়ে বলেছে, কোনও বিধায়ক ডাকলে আপনি যাবেন। তাই আগ বাড়িয়ে আমার ভোট করতে যাওয়ার দরকার কী আছে! তাই এ বারে আমি সেই রকম ভোট করিনি।” অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




