‘পিএম পোষণ’ প্রকল্পে স্কুলের খাবার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! নজরদারিতে থাকবেন অভিভাবকরাও

বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টির মান উন্নত করা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে কার্যকর করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ প্রকল্প (PM Poshan Scheme)। দেশের অন্যান্য বহু রাজ্যে কয়েক বছর ধরেই এই কর্মসূচি চালু থাকলেও বাংলায় সম্প্রতি এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পে।
স্কুল পড়ুয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী পোষণ প্রকল্প (PM Poshan Scheme)
এতদিন মিড-ডে মিল কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের খাবার দেওয়া হলেও নতুন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয় স্তরে অভিভাবকদের সরাসরি যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলায় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভিভাবকদের বৈঠকও শুরু হয়েছে।
এই প্রকল্পে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঁচ সদস্যের একটি পিএম পোষণ কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিতে থাকবেন প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা, একজন নোডাল শিক্ষক, দুজন অভিভাবক প্রতিনিধি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর একজন সদস্য। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত হওয়া খাবারের মান বজায় রাখা, নির্ধারিত মেনু অনুসরণ হচ্ছে কি না তা দেখা এবং খাদ্য পরিবেশনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে এই কমিটির উপর। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছে মালদার স্কুলে।
মালদা শহরের বার্লো গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দীপশ্রী মজুমদার বলছেন, “সার্কেল ইন্সপেকটর অফ স্কুলসের নির্দেশ পেয়েই আমরা স্কুলে পিএম পোষণের কমিটি তৈরি করেছি ৷ এই কমিটিতে আমরা অভিভাবক প্রতিনিধিদের রেখেছি ৷ আমরা চাই, তাঁরা প্রতিদিন টিফিনের সময় স্কুলে আসুন ৷ বাচ্চাদের জন্য তৈরি খাবার দেখাশোনা করুন ৷ কোনও পরামর্শ থাকলে দিন ৷ কারণ, তাঁদের এবং আমাদের মেয়েরাই এই খাবার খাবে ৷ টাকাটা খুব কম হলেও খাবারের গুণগত মান যাতে বজায় রাখতে পারি আমরা তার চেষ্টা করব ৷ আমরা ইতিমধ্যে শিক্ষিকাদের একটি কমিটি তৈরি করেছি ৷ এতদিন পুরসভার মাধ্যমে মিড ডে মিল পরিচালিত হতো ৷ কিন্তু এখন শিক্ষিকারা এর পরিচালনা করায় অনেক সুবিধে বলে মনে হচ্ছে ৷ আমরা চাইছি, সব মেয়েরাই এই খাবার খাক ৷ এর জন্য অবশ্য অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে ৷ আমরা খাবার খেয়ে দেখেছি, রান্না খুব ভালো হচ্ছে ৷ পিএম পোষণের মেনু ঠিক করা থাকে ৷ তার বাইরে আরও কিছু বাচ্চাদের খাওয়ানো যায় কি না সেটা আলোচনা করে দেখব ৷”
নতুন ব্যবস্থায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে আরও বেশি দায়িত্ব আসায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ আশাবাদী। তাঁদের মতে, স্থানীয় স্তরে নজরদারি বাড়লে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়াও সম্ভব হবে।এই প্রসঙ্গে মালদা সিসি গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মৌমিতা প্রামাণিক বলেন, “পিএম পোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে আমরা নিজেরা পেয়েছি ৷ এতে আমরা খুব খুশি ৷ এর মধ্যে অভিভাবকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৷ দিদিমণি এবং অভিভাবকরা একসঙ্গে এই প্রকল্প চালাবেন ৷ আশা করি এতে খাবারের গুণগত মান আমরা আরও ভালো করতে পারব ৷ বাচ্চারাও নিশ্চিতভাবে খুব ভালোভাবে খাবে ৷ এর আগে মিড ডে মিলের ক্ষেত্রে আমরা দেখাশোনাটা হয়তো করেছি, কিন্তু সব কিছু আমাদের হাতে ছিল না ৷ তখন সবটা পুরসভার মাধ্যমেই চলত ৷ নতুন পদ্ধতিতে খাবারের গুণগত মানও বাড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে ৷ পিএম পোষণে খাবারের চার্ট নিশ্চয়ই আছে ৷ কিন্তু তার বাইরে গিয়েও বাচ্চাদের জন্য কিছু নতুন পদের আয়োজন করা যেতে পারে ৷ ভিন্ন ধরনের খাবার ওদেরও ভালো লাগবে ৷”

আরও পড়ুন : আসল ইলিশের দামে ‘নকল’ ইলিশ গছিয়ে দিচ্ছে না তো? ফারাক করবেন কীকরে?
শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের একসঙ্গে যুক্ত করে পিএম পোষণ প্রকল্পকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এই উদ্যোগের ফলে ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগও আরও মজবুত হবে।




