0%

মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’! ছিয়াশির বিতর্কিত গোল কি সত্যিই ‘অবৈধ’?

”আন পোকো কন লা কাবেজা দি মারাদোনা ওয়াই অত্রো পোকো কন লা মানো দে দিওস।” বাংলা করলে দাঁড়ায়, ”কিছুটা মারাদোনার মাথা আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত।” ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত (আসলে কুখ্যাত) গোলটির পর ম্যাচশেষে এমন কথাই বলেছিলেন দিয়েগো মারাদোনা। কেটে গিয়েছে চল্লিশটা বছর। পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে আরও ‘বুড়ো’ হয়ে গিয়েছে। আর সব কিছুর মতো ফুটবলও বদলে গিয়েছে আমূল। কিন্তু মারাদোনা ও তাঁর জাদুকরী সফর যেন আজও অব্যাহত। আর সেই সফরের ‘নিউক্লিয়াস’ যে ছিয়াশির বিশ্বকাপ, এটা নিয়ে বিতর্ক নেই। যদিও সেই আলোচনার সবটাই সদর্থক নয়। কারণ ওই ‘ঈশ্বরের হাত’! কিন্তু সত্যিই কি মারাদোনা হাত দিয়ে গোলটা করেছিলেন? কী বলেছিলেন রেফারি?

১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকোর এস্টাডিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ। বছর চারেক আগের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের ফুটবল ম্যাচ আর নিছক খেলা নেই। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ‘অফসাইড’ গোলে নাকি জয়লাভ করে ব্রিটিশরা। সেই বিতর্কই যুদ্ধের আঁচে পুড়ে ছিয়াশির বিশ্বকাপে মাঠকে করে তুলল রণক্ষেত্র। প্রথমার্ধে কোনও গোল হল না। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই মুহূর্ত।

৫১তম মিনিটে মুখোমুখি মারাদোনা ও ব্রিটিশ গোলকিপার পিটার শিলটন। বলটা দু’জনের মাথার ওপর দিয়ে নিচে নেমে আসছিল। ধরার জন্য শিলটন তাঁর ডান হাত বাড়িয়ে লাফিয়ে ওঠেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে মারাদোনাও তাঁর বাঁ হাত বাড়িয়ে লাফ দেন। যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁর মুষ্ঠি বলটিকে স্পর্শ করে! বল জড়িয়ে যায় জালে। বিতর্ক তখন থেকেই শুরু হয়েছিল। যদিও আর চার মিনিট পরে দেখা গেল ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’। একের পর এক ব্রিটিশ খেলোয়াড়দের ভূপতিত করে মারাদোনার দুরন্ত গোল গোটা বিশ্বকে সম্মোহিত করে দেয়। তবে খেলাশেষে ফের ফিরে আসে সেই বিতর্ক। মারাদোনা কী বলেছিলেন, সেটা শুরুতেই বলা হয়েছে। শোনা যাক, সেই ম্যাচের রেফারি আলি বিল নাসিরের বক্তব্য।

টিউনিশিয়ার নাগরিক নাসির বলেন, ”ফিফা আমাদের পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছে যদি তোমার সহকর্মী তোমার চেয়ে ভালো পজিশনে থাকে, তাহলে তার পক্ষে ওই পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব।” ওই ম্যাচের লাইন্সম্যান বগদান দোচেভ সেই মুহূর্তে সত্যিই নাসিরের চেয়ে ভালো পজিশনে ছিলেন। নাসির দেখতে পান বগদান মাঠের মধ্যরেখার দিকে সরে গিয়েছেন। এর থেকেই নাসির ধরে নেন তিনি গোলটিকে বৈধ বলেই গণ্য করেছেন। দোচেভ মারা গিয়েছেন বছর নয় আগে। তবে মৃত্যুর আগে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, গোলটি নিয়ে তাঁর মনে কিছুটা সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সহকারী রেফারিদের পক্ষে মূল রেফারির সঙ্গে নিজেদের মতামত নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ না থাকায়, সেই সিদ্ধান্তটিই বহাল থেকে যায়। আর বহাল থেকে যায় বিতর্কও।

আমেরিকার বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ফিরে এসেছে প্রতিযোগিতার সেরা মুহূর্তগুলি নিয়ে চর্চা। ফিরে এসেছে বিতর্কও। যার মধ্যে ‘হ্যান্ড অফ গড’ তো আছেই। তবে সেই সঙ্গেই আলোচনা অব্যাহত সেবারের বিশ্বকাপে মারাদোনা একা কীভাবে একটা দেশকে বিশ্বসেরা করেছিলেন তা নিয়েও। আসলে বিতর্ক ও রূপকথা একসঙ্গে নিয়ে চলতে পারেন বলেই তো আজও মারাদোনা প্রাসঙ্গিক। আজও তিনি খেলাটার শ্রেষ্ঠ এক নায়ক!

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker