0%

ইসকনের হাত ধরে কলকাতায় মিড-ডে মিলের সূচনা, তিন মাসে আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে পৌঁছবে খাবার: রাঁধুনিদের চাকরি ও সপ্তাহে দু’দিন ডিমের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল শনিবার। তারাতলায় ইসকনের সেন্ট্রাল কিচেন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হল ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের পাইলট প্রকল্প। প্রথম পর্যায়ে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ৫০০টি স্কুলের প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইসকনের আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত রান্নাঘর থেকে খাদ্য নিরাপত্তার সমস্ত মান বজায় রেখে স্কুলে স্কুলে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়াকে।

– বিজ্ঞাপন –

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ইসকনের সেন্ট্রাল কিচেন ঘুরে দেখেন এবং রান্নার কাজেও প্রতীকীভাবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। পাঁচটি স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়াকে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি মিড-ডে মিল পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাঁধুনিদের চাকরি যাবে না, অগস্ট থেকে ৩,০০০ টাকা বেতন

মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার জবাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান মিড-ডে মিলের কোনও রাঁধুনিকেই কর্মচ্যুত করা হবে না। বরং তাঁদের ইসকনের খাদ্য বিতরণ ও রান্না ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“এক জন রাঁধুনি দিদিও কর্মচ্যুত হবেন না। রান্না এবং মিড-ডে মিল বিতরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করা হবে।”

এছাড়াও তিনি ঘোষণা করেন, চলতি অগস্ট মাস থেকেই মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের মাসিক ৩,০০০ টাকা করে বেতন দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ডিম থাকবে, সপ্তাহে দু’দিন দেওয়ার আশ্বাস

ইসকনের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব যাওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল ডিম দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে। সেই জল্পনারও অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের পড়ুয়ারা সপ্তাহে দু’দিন ডিম পাবে।

তিনি বলেন, অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। সরকারের সঙ্গে ইসকনের চুক্তি সম্পর্কে না জেনেই প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসকনের নিজস্ব খাদ্যনীতির বাইরে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থায় সপ্তাহে দু’দিন ডিম বিতরণ করা হবে।

ভবিষ্যতে মেনুতে মাছও থাকতে পারে

এদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী মিড-ডে মিলের মেনুতে মাছ-সহ আরও পুষ্টিকর খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তাই সময়ের সঙ্গে মেনুতেও পরিবর্তন আনা হতে পারে।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, কলকাতায় এই পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও সাফল্য পর্যালোচনা করার পর ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। এতে একদিকে যেমন খাবারের গুণগত মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তেমনই আধুনিক কেন্দ্রীয় রান্নাঘরভিত্তিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও সুসংহত হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker