মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে এনসিপিআই-এর ১৯ সাংসদ, বৈঠকের পর মুখ খুললেন শতাব্দী-সুদীপরা

AK Bangla Desk: রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিজেদের সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করলেন এনসিপিআই সাংসদেরা। মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকের পর সাংসদেরা জানান, মূলত উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং প্রশাসনিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে এনসিপিআই বিজেপির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। মোট ২২ জন সাংসদ বৈঠকে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়-সহ এনসিপিআইয়ের ১৯ জন সাংসদ ছিলেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলত্যাগী রাজ্যসভার তিন বিজেপি সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
দুপুর ১টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দিল্লিতে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যানজট তৈরি হওয়ায় বঙ্গভবনে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয় মুখ্যমন্ত্রীর। পরে ২২ জন সাংসদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন তিনি। বৈঠক শেষে শুভেন্দু সংসদের উদ্দেশে রওনা দিলেও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। বিশেষ করে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতি বৈঠকের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে বৈঠক শেষে সাংসদ শতাব্দী রায় দাবি করেন, দলীয় রাজনীতি বা এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও আলোচনা হয়নি। শতাব্দীর কথায়, “বৈঠক খুব ভাল এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে আমরা নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকও করব।”
যদিও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ২০ জনই আছি। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।” কারা যোগ দিতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “বুঝে নিন।” রচনা আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে তাঁদের প্রয়োজনীয় দিশা এবং পরামর্শ দিয়েছেন। অন্য দিকে, সুখেন্দুশেখর রায় বৈঠকটিকে নিছক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। এর বাইরে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইকও জানিয়েছেন, বৈঠকে তাঁদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।এর আগে মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে এনডিএর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়-সহ এনসিপিআইয়ের একাধিক সাংসদ। তবে সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন দলের তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পঠান। আগের বৈঠকেও তাঁদের দেখা যায়নি। ফলে তাঁদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বঙ্গভবনের বৈঠকে ওই তিন সাংসদই উপস্থিত ছিলেন। এনডিএর বৈঠকে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তাহের স্পষ্ট বলেন, “আমরা এনডিএতেও নেই, বিজেপিতেও নেই।”



