0%

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে ভোটার কার্ড থেকে সম্পত্তির খতিয়ান, আর কী কী তথ্য লাগবে?

অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। কারণ, এই প্রকল্পের ফর্মে আবেদনকারীর পরিবার সম্পর্কে বিস্তর তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। ভোটার কার্ডের নম্বর থেকে শুরু করে সম্পত্তির খতিয়ান, প্যান কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা, এমনকি সিএএ বা এসআইআর সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে আবেদনকারীদের।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ড নম্বর, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র এবং পার্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সেই সংক্রান্ত তথ্যও বিস্তারিত ভাবে জানাতে হবে।

ফর্মের তৃতীয় অংশে আবেদনকারীর সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। পরিবার পাকা বাড়ির মালিক কি না, কতটা জমি রয়েছে, মিউটেশন ও রেজিস্ট্রেশনের নথি— সবই উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি রয়েছে কি না, তাও জানাতে বলা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, আবেদনকারী বা তাঁর পরিবার ইতিমধ্যেই অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে কি না, তাও জানতে চেয়েছে সরকার। যদি প্যান কার্ড থাকে, তবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্যান নম্বরও জমা দিতে হবে।

ফর্মে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও চাওয়া হয়েছে। শিক্ষিত সদস্যদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি বা শংসাপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে।

সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে কয়েকটি বিশেষ প্রশ্ন। ফর্মে জানতে চাওয়া হয়েছে— পরিবারের কেউ সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআর-এ নাম বাদ পড়েছে কি না এবং বাদ পড়ে থাকলে ট্রাইবুনালে আবেদন করা হয়েছে কি না।

এছাড়াও পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের তথ্যও জমা দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে টানা তিন মাস ধরে ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া চলবে। ফলে তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন নেই।

তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ফর্মে এত বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করা সহজ হবে না। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বহু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। সে ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি কর্মীদের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker