কাকে বিশ্বাস করবেন মমতা! শুভেন্দুর প্রশংসা করে দলীয় পদ ছাড়লেন তৃণমূল বিধায়ক

সবদিক নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শাসকদলের অন্দরে ভাঙন আরও স্পষ্ট! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলা থেকে মাটি যে ক্রমশ সরছে, তা যেন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। ঋতব্রতপন্থীদের ‘আসল তৃণমূল’ যত শক্তিশালী হচ্ছে, কালীঘাটের অন্দরমহল যেন ততই ‘সংখ্যালঘু’ ও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই আবহে রবিবার রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় বোমা ফাটালেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি মোশারফ হোসেন। সরাসরি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
রবিবার নিজের বাসভবনে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মোশারফ। যদিও প্রকাশ্যে দলীয় পদ ছাড়ার নেপথ্যে তিনি নিজের মায়ের দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং ব্যক্তিগত কারণকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ইতিমধ্যেই কালীঘাটে দলীয় নেতৃত্বের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে শুধু ইস্তফা দিয়েই ক্ষান্ত হননি মোশারফ হোসেন; সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি বঙ্গে দলবদলের জল্পনাকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক রাখঢাক না রেখেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পর্দার আড়ালে বর্তমান ঋতব্রতপন্থী শিবিরের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিজের অত্যন্ত সুসম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। মোশারফ স্পষ্ট জানান, শুভেন্দু অধিকারীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং তাঁর হাত ধরেই আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কাজ করতে চান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে চোরা স্রোত বইছিল, তা এবার কার্যত সুনামির রূপ নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য আস্থা জানিয়ে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের খোদ রাজ্য সভাপতির এই ‘বিদ্রোহ’ মমতা শিবিরের জন্য এক অপূরণীয় ধাক্কা। ২০২৬ সালের এই হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক মরশুমে মোশারফের এই পদক্ষেপের পর ইটাহার তথা উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠন যে বড়সড় ভাঙনের মুখে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।



