কুলতলির মেলায় রাত নামলেই ‘নগ্ন নাচ’! শাসক বিধায়কের নাম জড়িয়ে তীব্র অভিযোগ তরুণজ্যোতির

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের কুলতলিতে আয়োজিত দুটি মেলাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই মেলাগুলিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি (Tarunjyoti Tewari)। সম্প্রতি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই মেলার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টে তিনি বাংলার সংস্কৃতি, প্রশাসনের ভূমিকা এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মহলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কী ঘটেছে কুলতলিতে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিও ক্লিপে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি (Tarunjyoti Tewari) দাবি করেছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির সানকি জান কলোনি ও জামতলা হাসপাতাল মোড়ে দু’টি মেলা চলছে। এই দুটি মেলার সম্পাদক ও আহ্বায়ক খোদ কুলতলির তৃণমূল বিধায়ক গণেশ মণ্ডল বলে জানান তিনি। তরুণজ্যোতির অভিযোগ, দিনের বেলায় সাধারণ মেলার আয়োজন হলেও রাত নামার পর মেলার ভেতরে শুরু হচ্ছে সম্পূর্ণ নগ্ন নৃত্য। স্বল্প পোশাক নয়, বরং পুরোপুরি উলঙ্গ নাচ চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই নাচকে “বুগি উগি” নাম দিয়ে প্রকাশ্য অশ্লীলতা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনাকে সামনে রেখে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি (Tarunjyoti Tewari) প্রশ্ন তুলেছেন এটাই কি বাংলার সংস্কৃতি? এটাই কি বাংলার ঐতিহ্য? তাঁর অভিযোগ, এক সময় যুবসমাজকে মদের গ্লাসে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল, আর এখন নগ্ন নাচের মঞ্চে মাতিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছে শাসক দলের যুবনীতি।
পরিকল্পিতভাবে যুবসমাজ ধ্বংসের অভিযোগ তরুণজ্যোতির (Tarunjyoti Tewari)
তরুণজ্যোতি (Tarunjyoti Tewari) তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে যুবসমাজকে ধ্বংস করা হচ্ছে। নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে টাকার লোভ আর ক্ষমতার দাপটে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। তরুণজ্যোতির দাবি, তৃণমূলের বহু বিধায়ক আজ মধুচক্র, দেহব্যবসা, দুর্নীতি ও অনৈতিকতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ এবার আসরে বাস মালিকরা, ভোটের নির্ঘণ্টের আগেই কমিশনকে চিঠি সংগঠনের
এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে নীরবতা। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির (Tarunjyoti Tewari) অভিযোগ, বুদ্ধিজীবী মহল নীরব, মিডিয়া নীরব, প্রশাসনও নীরব। কারণ, অভিযুক্তরা শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত। পোস্টের শেষে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, ‘এই নীরবতাই আজ বাংলার সবচেয়ে বড় অপরাধ’। তাঁর মতে, এই নীরবতার ফলেই ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।



