কেন মাতৃত্ব উপভোগ করেন না রুবি? প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শিশুদের ‘ইঁদুরদৌড়’-এ ঠেলে দেয়!

ভারতের প্রথম দিককার ভিজে (VJ) হিসেবে একসময় টেলিভিশনের পর্দায় দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছিলেন রুবি ভাটিয়া (Ruby Bhatia)। কেরিয়ারের শিখরে থাকতেই আচমকা গ্ল্যামার জগত থেকে সরে গিয়ে আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত অনেককেই চমকে দিয়েছিল। ভক্তদের একাংশ যখন তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু করেছেন, ঠিক তখনই আবার শিরোনামে রুবি, এবার তিনি অকপট মন্তব্য করেছেন মাতৃত্ববোধ এবং সন্তান প্রতিপালনের ভিন্নধর্মী দর্শন নিয়ে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুবি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন, তিনি মাতৃত্ব ‘উপভোগ’ করেন না। যদিও নিজের দুই সন্তানকে ভীষণ ভালোবাসেন, তবু মা হওয়াটা তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব। তাঁর কথায়, ‘মা হওয়া মানে সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ, চিৎকার, দায়িত্ব… শান্তি বলে কিছু নেই। আমি বরং ওদের বেশি পছন্দ করি যখন ওরা ঘুমিয়ে থাকে।’
আরও পড়ুন: মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ জয়ে পলাশ মুচ্ছলকে কটাক্ষ স্মৃতির মায়ের, মিম ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া
খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন রুবি। প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর তিনি নিজের জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন। ২৫ বছর বয়সে ইস্কন (ISKCON)-এ যোগ দেন এবং আধ্যাত্মিক জীবনযাপন তাঁকে নতুন অর্থ দেয়। সেই সময় অভিনয় ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলতেন তিনি।
পরে গুরুজির আশ্রমে অজিত দত্তের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম, তারপর বিয়ে। কিন্তু স্বাধীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত রুবির কাছে সংসার, বিশেষ করে সন্তান জন্মের পরের জীবন ছিল একেবারে অচেনা অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “নিঃশব্দ জীবন থেকে হঠাৎ চরম বিশৃঙ্খলায় ঢুকে পড়েছিলাম। সারারাত কান্না, ডায়াপার বদল, ওজন বাড়া-কমা সব মিলিয়ে ভীষণ ক্লান্তিকর সময় কেটেছে।”
মাতৃত্ব যে শুধুই আনন্দের নয়, সেটাও অকপটে বলেছেন তিনি। তবে সন্তানেরা যখন ভালোবাসা প্রকাশ করে, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কাজের দিক থেকেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রুবি। সন্তানদের ছোটবেলায় মায়ের অনুপস্থিতি সহ্য করতে না পেরে তিনি আবার অ্যাঙ্করিং ছেড়ে দেন।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর সন্তানদের স্কুলে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে। রুবির বিশ্বাস, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শিশুদের ‘ইঁদুরদৌড়’-এ ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, “জীবনের উদ্দেশ্য শুধু পড়াশোনা, বিয়ে, চাকরি নয়। ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগই মানবজীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। আমি চাই আমার সন্তানরা সময় নিয়ে জীবনকে বুঝুক।”
কিছুদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠালেও পরীক্ষার চাপ, প্রজেক্ট, স্পোর্টস ডে, সব মিলিয়ে সেই পরিবেশ তাঁর কাছে ‘অর্থহীন’ মনে হয়েছে। পরে তিনি হোমস্কুলিং বেছে নেন। তাঁর দাবি, বিকল্প পদ্ধতিতে পড়াশোনা করেও সার্টিফিকেশন পাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: মঞ্চজীবন থেকে দাম্পত্য, মা-বাবাকে নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া লেখা ঋদ্ধির
আধুনিক স্কুলে নেশা ও নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন রুবি। তাঁর মতে, এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থায় জীবনের দক্ষতা শেখানো হয় না, বরং অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা বাড়ানো হয়। রুবি আরও বলেন, ‘আমি হয়তো আদর্শ মা নই, কিন্তু ঈশ্বর আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন, এটাই আমার কৃতজ্ঞতার জায়গা।’



