0%

চিন-পাকিস্তানের অস্বস্তি বাড়াতে পারে নতুন চুক্তি! রোলস-রয়েসের প্রস্তাবে দেশীয় স্টিলথ ফাইটার তৈরির পথ আরও প্রশস্ত

সবদিক নিউজ:ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসতে চলেছে। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রকল্পে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। ব্রিটিশ অ্যারোস্পেস সংস্থা রোলস-রয়েস (Rolls-Royce) ভারতের কাছে একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। শুধু প্রযুক্তি হস্তান্তরই নয়, এই প্রস্তাবের অন্যতম আকর্ষণ হল সম্পূর্ণ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলা ভারতের জন্য এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোলস-রয়েসের (Rolls-Royce) প্রস্তাবে দেশীয় স্টিলথ ফাইটার তৈরির পথ আরও প্রশস্ত

সূত্রের খবর, রোলস-রয়েসের (Rolls-Royce) এই পদক্ষেপ সরাসরি প্রতিযোগিতার মুখে ফেলেছে ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা সাফরানকে। দীর্ঘদিন ধরেই সাফরান ভারতের সঙ্গে এএমসিএ প্রকল্পের জন্য উন্নত ইঞ্জিন তৈরির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে রোলস-রয়েসের নতুন প্রস্তাবে যে মাত্রার প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং মালিকানার অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে খুবই বিরল। ফলে ভারতের সামনে এখন একাধিক বিকল্প তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

 এই ক্রিকেটারের সাথে বড় অন্যায় করলো BCCI! যোগ্যতা প্রমাণ করেও ভারতীয় দলে হলো না জায়গা

রোলস-রয়েসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নেক্সট জেনারেশন ফাইটার ইঞ্জিন ভারতের মাটিতেই যৌথ উদ্যোগে তৈরি হবে। সংস্থার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সচিব মুকুন্দন জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের মধ্যেই ইঞ্জিনটির গ্রাউন্ড টেস্টিং সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০৩১ সালের মধ্যেই দেশীয় ইঞ্জিনচালিত এএমসিএ যুদ্ধবিমান প্রথমবারের জন্য আকাশে উড়তে পারে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য এটি হবে একটি যুগান্তকারী সাফল্য। কারণ এতদিন পর্যন্ত উন্নত যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভর করতে হয়েছে।

ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে শুধু প্রযুক্তি আমদানি নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত মালিকানা ও উন্নয়নের অধিকারও দেশের হাতে থাকতে হবে। সাধারণত বিদেশি সংস্থাগুলি উৎপাদন প্রযুক্তির কিছু অংশ ভাগ করলেও মূল নকশা, গবেষণা এবং আধুনিকীকরণের অধিকার নিজেদের কাছেই রাখে। কিন্তু রোলস-রয়েসের প্রস্তাবে ইঞ্জিনের ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরীক্ষা, সার্টিফিকেশন এবং ভবিষ্যতের আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত পূর্ণ অধিকার ভারতের হাতে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।

Proposal of Rolls-Royce widen the road for made in India for stealth fighter.

 ‘মমতাদির সঙ্গে আছি, কিন্তু বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই’! বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

এদিকে সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এএমসিএ প্রকল্পের জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) জারি করেছে। এই প্রকল্পে প্রথমবারের মতো বড় আকারে বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো ও ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের যৌথ জোট, ভারত ফোর্জ এবং বিইএমএল-সহ একাধিক সংস্থাকে এই কর্মসূচির সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোলস-রয়েসের (Rolls-Royce) প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শুধু একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানই নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker