0%

নথি ছাড়াই তৈরি আস্ত অফিস! জেলা প্রশাসনের জোড়া নোটিসেও মেলেনি জবাব, ভাঙা হচ্ছে অভিষেকের আমতলা কার্যালয়

AK Bangla Desk: শনিবার সকালেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল। কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল। কোনও বৈধ প্ল্যান কিংবা উপযুক্ত আইনি নথি ছাড়াই এই বহুতল কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছে, এই মারাত্মক অভিযোগে শনিবার সকাল থেকেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য আমতলার ওই কার্যালয় চত্বর সম্পূর্ণভাবে গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন বিষ্ণুপুর পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা। এমনকি মজুত রাখা হয়েছে দমকল বাহিনীও।

পরপর জোড়া নোটিস, মিলল না কোনও জবাব

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত দিনের ব্যবধানে ওই কার্যালয়ে পরপর দুটি নোটিস দিয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রথম নোটিসটি দেওয়া হয়েছিল গত ৩০ জুন, যেখানে বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে আগামী ১৫ জুলাই তাঁকে জেলা প্রশাসনের দফতরে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয় আমতলার ওই কার্যালয়ে। কিন্তু প্রশাসনের দেওয়া এই জোড়া নোটিসের কোনও জবাব দেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর প্রতিনিধিরা। আর এই সাড়া না দেওয়ার কারণেই এবার চরম পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের জমি ও ভাঙার তোড়জোড়

প্রশাসনিক নোটিসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে বিতর্কিত জমির ওপর সাংসদের এই সুবিশাল কার্যালয়টি তৈরি হয়েছে, তা আদতে কেনা হয়েছিল ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কোম্পানির নামে। সেই নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। বৈধ প্ল্যান বহির্ভূত এই বিল্ডিংয়ের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরেই এটি ভেঙে ফেলার তোড়জোড় শুরু করেছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক কোণঠাসা অভিষেক। এর আগে কলকাতা পুরসভার তরফেও তাঁর কলকাতার দুটি ঠিকানা, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং কালীঘাট রোডের বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের নোটিস পাঠিয়ে জবাব তলব করা হয়েছিল। আর এবার সরাসরি তাঁর সংসদীয় এলাকার মূল কার্যালয়টিই বেআইনি দেগে ভেঙে ফেলার এই তৎপরতা তৃণমূল শিবিরের জন্য এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকা জুড়ে কড়া টহল দিচ্ছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker