প্রশ্নফাঁস রুখতে বড় পদক্ষেপ! এবার থেকে মহারাষ্ট্রে সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা হবে অনলাইনে

সবদিক নিউজ: প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কের আবহে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিল মহারাষ্ট্র সরকার। বিধানসভায় রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দাদাজি ভুসে ঘোষণা করেন, ভবিষ্যতে সরকারি পদে নিয়োগের পরীক্ষাগুলি অনলাইন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কীভাবে অনলাইন মাধ্যমে পরীক্ষাগুলি পরিচালনা করা হবে, তার রূপরেখা তৈরির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজেশ অগ্রবালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি টেট-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দফতরের সহযোগিতা নিতে পারে। এদিকে, টেট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্তও জোরদার করা হয়েছে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে দিল্লি ও হরিয়ানায় একটি করে এবং বিহারে দু’টি বিশেষ তদন্তকারী দল পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের সঙ্গে ওই রাজ্যগুলির কোনও সংগঠিত চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক বিজয় ওয়াদেট্টিওয়ার অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্ত অভিষেক সাভ্রিকর অতীতেও একই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি, তাঁকে পরে শাসকদলে যোগ দিতেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শিবসেনার (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) নেতা ভাস্কর যাদবও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে সাত জনই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সুধীর মুঙ্গতিওয়ার বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে দাবি করেন, এই ঘটনায় বহিরাগতদেরও ভূমিকা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্নপত্র আগরা থেকে ছাপিয়ে আনা হয়েছিল, ফলে বহিরাগত যোগের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদিন বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগেই স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দাদাজি ভুসের পদত্যাগের দাবিতে বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী দলের বিধায়কেরা। ফলে প্রশ্নফাঁস ইস্যু ঘিরে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।


