বিশ্ববাজারে ভারতীয় আমের দাপট! রফতানিতে তৈরি নতুন রেকর্ড

সবদিক নিউজ:আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ভারতীয় (India) আমের দাপট। উপসাগরীয় দেশ থেকে শুরু করে ইউরোপ, সিঙ্গাপুর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় আম এখন ‘প্রিমিয়াম মরশুমি ফল’ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ক্রমবর্ধমান রপ্তানি, উচ্চমূল্য এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি স্থানীয় ভোক্তাদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় আমের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থা, আধুনিক কোল্ড-চেইন নেটওয়ার্ক এবং রপ্তানি পরিকাঠামোর উন্নতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় আমের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারত এখন শুধু উৎপাদনেই নয়, রপ্তানিতেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে শুরু করেছে।
আম রপ্তানিতেও বিশ্ববাজারে ভারতের (India) দাপট:
বিশ্বব্যাপী আম উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই ভারতে হয়। দেশের বিশাল জনসংখ্যা এই ফলের বড় অংশ ভোগ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা এপিইডিএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ২৯,৯৩৮ মেট্রিক টন তাজা আম রপ্তানি করেছে। এর ফলে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৭০ কোটিরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে উন্নত তাপ বিকিরণ ব্যবস্থা, দ্রুত পরিবহণ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ফল সংরক্ষণের প্রযুক্তি। আগে যেখানে দূরবর্তী দেশে আম পৌঁছতে গিয়ে মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত, এখন সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে। ফলে ভারতীয় আম এখন আন্তর্জাতিক সুপারমার্কেটগুলিতে সহজেই জায়গা করে নিচ্ছে।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বড় পদক্ষেপ শ্রীলঙ্কার! ভারতীয়দের জন্য চালু বিনামূল্যে ভিসা পরিষেবা
বিদেশে ভারতীয় আম নিয়ে উন্মাদনার একটি বড় উদাহরণ সম্প্রতি সামনে এসেছে সিঙ্গাপুরে। ভারতে অবস্থিত সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানানো হয়েছে, সিঙ্গাপুরে ভারতীয় আম নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের আম সেখানকার সুপারমার্কেটগুলো থেকে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে ভারতীয় আমের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এপিইডিএ-র তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই ভারত ইউএই-তে ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ১২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আম রপ্তানি করেছে। এছাড়াও আমেরিকা, ব্রিটেন, কাতার, কুয়েত এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ভারতীয় আমের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে এই ফলের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের হলেও এখন বিদেশি ক্রেতারাও ভারতীয় আমের স্বাদে আকৃষ্ট হচ্ছেন।
মহারাষ্ট্রের আলফনসো আম আন্তর্জাতিক বাজারে বহুদিন ধরেই ‘আমের রাজা’ হিসেবে পরিচিত। এর সুগন্ধ, স্বাদ এবং মসৃণ গঠনের জন্য বিদেশি বাজারে এর আলাদা কদর রয়েছে। তবে এখন শুধু আলফনসো নয়, ভারতের অন্যান্য প্রজাতির আমও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গুজরাটের কেশর, দক্ষিণ ভারতের তোতাপুরি এবং উত্তর ভারতের ল্যাংড়া ও চৌসা আমের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। রপ্তানিকারকদের মতে, বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা এখন স্বাদ ও দামের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির আম বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে মূল্য-সংবেদনশীল বাজারে কেশর আমের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ এটি প্রিমিয়াম আলফনসোর তুলনায় তুলনামূলক সস্তা। একই সঙ্গে জিআই ট্যাগযুক্ত ভারতীয় আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি করে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।

বারংবার হয়েছেন ব্যর্থ! তারপরেই শুরু অভিনব ব্যবসা, বাড়ি পরিষ্কার করেই ১.৫ কোটি আয় মুম্বাইয়ের যুবকের
ভারতীয় (India) আমকে বিশ্ববাজারে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রচার কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘ইন্ডিয়ান ম্যাঙ্গো ম্যানিয়া ২০২৫’, যেখানে ভারতের বিভিন্ন উৎকৃষ্ট মানের আম বিদেশি ক্রেতা ও ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় আম এখন শুধু একটি ফল নয়, বরং ভারতের কৃষি রপ্তানি এবং সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় আমের এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য দেশের কৃষক, রপ্তানিকারক এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।




