ভারতেও ভয়ঙ্কর ইবোলার হানা? উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২ রোগী

সবদিক নিউজ:আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus) ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। মধ্য আফ্রিকার একাধিক দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। সুদান, কঙ্গো ও উগান্ডার বিভিন্ন অঞ্চলে ইবোলার প্রকোপ বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলে সতর্কতা জারি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতে ইবোলা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ হায়দরাবাদে দুই ব্যক্তির শরীরে ইবোলার উপসর্গ ধরা পড়ায় স্বাস্থ্য দফতর জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ভারতেও ইবোলার (Ebola Virus) উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২
স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সুদান থেকে আগত ৩৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি হায়দরাবাদের শামশাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় সন্দেহভাজন উপসর্গ নিয়ে ধরা পড়েন। তাঁর নাম মহম্মদ ইয়াগোচ আহমেদ। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করার পরই তাঁকে দ্রুত হায়দরাবাদের গান্ধী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষভাবে তৈরি আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি ভারতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত এবং সম্প্রতি আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছেন (Ebola Virus)।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক আছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
শুধু ওই ব্যক্তিই নন, তাঁর সংস্পর্শে আসা আরও এক ব্যক্তিকেও বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা উভয়ের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগীদের থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রথমে হায়দরাবাদের সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নমুনাগুলি পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে পাঠানো হবে, যেখানে চূড়ান্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে আদৌ ইবোলা সংক্রমণ হয়েছে কি না। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, পরীক্ষার ফলাফল হাতে পেতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত রোগীদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে চিকিৎসা করা হবে।
এদিকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের বিমানবন্দরগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও কঠোর করা হয়েছে। সম্প্রতি সুদান থেকে আসা এক মহিলার শরীরেও ইবোলার মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। যদিও তাঁর পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তবুও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস, যা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, শরীরের তরল বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য সংক্রমণ রোধে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আইসোলেশনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিশ্বব্যাপী মন্দার আবহেও নির্ভয়ে এগিয়ে চলেছে দেশের অর্থনীতি! ৭.৭ শতাংশ হারে দৌড়চ্ছে ভারতের GDP
গান্ধী হাসপাতালের ইবোলা (Ebola Virus) নোডাল অফিসার ডা. সুনীল কুমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে ২০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরও গোটা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশাসনের বক্তব্য, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, তবে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। জ্বর, তীব্র দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা, বমি কিংবা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় রেখে কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বয় করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে, যাতে কোনওভাবেই সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে।




